নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর রায়পুরা-নরসিংদী আঞ্চলিক সড়কে দুই সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে উজ্জ্বল কুমার ওরফে প্রশান্ত শীল (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এসময় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ ১০ নম্বর সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত উজ্জ্বল কুমার রায়পুরার মেথিকান্দা এলাকার নারায়ণ চন্দ্র শীলের ছেলে।
স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, তিনি একদিন আগে নরসিংদীতে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন রায়পুরার চান্দেরকান্দি এলাকার অলি মিয়া (৪৫) ও গিয়াস উদ্দিন (৫৫), পূর্বপাড়া এলাকার রুহুল আমিন (৩০), নরসিংদী সদরের সুস্মিতা (১০), সোনিয়া শীল (৩০) ও প্রল্লাদ (১), রায়পুরা বাজারের ব্যবসায়ী মাইন উদ্দিন, তার মেয়ে লিপি (২৮) ও ছেলে আনিছ (৪)। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনসহ আহতদের মধ্যে দুই অটোরিকশার চালকও রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা রায়পুরার দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে রায়পুরা থেকে আরেকটি অটোরিকশা নরসিংদীর দিকে যাচ্ছিল। পথে হাসনাবাদ ১০ নম্বর সেতু এলাকায় সিএনজি দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি সিএনজি দুমড়েমুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত যাত্রী ও দুই চালকসহ ১২ জনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক উজ্জ্বল কুমারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আরেক আহতকে ঢাকায় পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। অন্যরা নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১২ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, দুই সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত উজ্জ্বল শীলের লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত আরও দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
