Published on
:
2 min read
সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পরে সঙ্গীকে নিজের বিশেষ কোনও কথা বলছেন। তিনি কিছুক্ষণ হয়তো মনোযোগ সহকারে সেই কথা শুনলেন, মাথাও নাড়লেন। তার পর উৎসাহ-উদ্দীপনা হারিয়ে হঠাৎই তাঁর চোখ চলে গেল হাতের মুঠোয় ধরা স্মার্টফোনটির স্ক্রিনে! কখনও নোটিফিকেশন চেক করা, কখনও আবার মেসেজের উত্তর দেওয়া, আবার কখনও বা কথার মাঝে ইনস্টাগ্রামে রিল স্ক্রোল করা শুরু করে দেওয়া—এমন দৃশ্য এখন চোখ সওয়া হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে হয়তো বড় কোনও মতান্তর বা কথা কাটাকাটি হয়নি, কিন্তু মনে সন্দেহ ঠিক জেগেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ‘তুমি কি আদৌ আমার কথা শুনছ?’ সম্পর্কের এই নতুন সঙ্কটকে বিশেষজ্ঞরা নাম দিয়েছেন ‘অ্যাটেনশন ইনফিডেলিটি’ বা মনোযোগের বিশ্বাসঘাতকতা!
‘অ্যাটেনশন ইনফিডেলিটি’ আসলে কী?
সমস্যাটি তখনই তৈরি হয়, যখন এটি একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়।
সঙ্গী আপনার সঙ্গে কথা বলছেন, আর আপনি স্ক্রিন স্ক্রোল করে চলেছেন। একসঙ্গে সিনেমা দেখছেন, অথচ তার মাঝেও ফোনে চ্যাট চলছে। সারাসপ্তাহ ব্যস্ততার পর একসঙ্গে কিছুটা সময় পাওয়ার পরেও যদি বেশিরভাগ সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্রাউজ় করেই কেটে যায়, তবে তা সম্পর্কের জন্য বিপজ্জনক।
হয়তো আপনার সঙ্গী কাজের ব্যস্ততার কথা বলছেন, আর আপনি গোপনে কোনও সেলিব্রিটির পোস্টে অন্যের করা কমেন্ট পড়ছেন। উত্তরে কেবল যান্ত্রিক ভাবে বলে যাচ্ছেন— ‘বাপরে, খুব খারাপ ব্যাপার!’ অথচ মনে মনে আপনি সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না।
ফোন কি ধীরে ধীরে আপনাদের সম্পর্কে দূরত্ব বাড়াচ্ছে?
সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন নতুন এই ধরনের পরিভাষা অনেক সময় সাধারণ আচরণকে বড় অপরাধ বলে মনে করাতে পারে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো— আপনার সঙ্গী কি নিয়মিত ভাবে আপনার মনোযোগ পাওয়ার জন্য ফোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছেন?
বারবার যদি কোনও কথোপকথন ফোনের নোটিফিকেশনের কারণে ব্যাহত হয়, তবে ডিভাইসের চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পারস্পরিক সংযোগ।
একজন মানুষকে যখন মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়, তখন সে নিজেকে মূল্যবান মনে করে। কিন্তু বারবার কথার মাঝে স্ক্রিনকে প্রাধান্য দিলে অপর মানুষটির মনে হতে পারে যে তিনি অবহেলিত হচ্ছেন, যদিও আপনার সে রকম কোনও খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।
এই অভ্যাসের ছাড়ানোর উপায় আছে কী?
মাঝেমধ্যে একটু খবর দেখে নেওয়া বা জরুরি মেল চেক করার মধ্যে কোনও দোষ নেই। সমস্যা তখনই তৈরি হয় যখন এই সমস্যাটি অভ্যাসে পরিণত হয়। ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই একটি সম্পর্ককে জোড়া লাগিয়ে রাখে, আর ফোন সেই জায়গাটাতেই ফাটল ধরায়।
ফোন দূরে রাখুন: খাওয়ার টেবিলে বা একসঙ্গে বসে কথা বলার সময় ফোন উল্টো করে বা অন্য ঘরে রাখুন।
ডিজিটাল ডিটক্স: সন্ধ্যায় অন্তত কিছুটা সময় দুজনেই ফোন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
অভ্যাস বদলান: প্রয়োজন না থাকলেও কেবল অভ্যাসের বশে বারবার স্ক্রিন স্পর্শ করার প্রবণতা ত্যাগ করুন।