শাহরাস্তিতে ঠোঁটকাটা-তালুকাটা রোগীদের বিনা মূল্যে অস্ত্রোপচার শুরু
চাঁদপুর প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ১০:৩২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ সেবার আওতায় অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, হাসপাতালে থাকা ও স্পিচ থেরাপি দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার উয়ারুক বাজারের মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে কর্মসূচির প্রথম সেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এর উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু নাছের শাকিল।
প্রথম দিনে ২০ জন রোগীর অস্ত্রোপচার শুরুর কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ডা. আরিফ উল হাসান সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি এককালীন চিকিৎসা ক্যাম্প নয়। দেশের যেকোনো প্রান্তের ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা রোগীরা এ সেবা নিতে পারবেন। প্রতি তিন মাস অন্তর অথবা ১০ জন রোগী নিবন্ধিত হলে অস্ত্রোপচারের আয়োজন করা হবে।
কর্মসূচির আওতায় রোগীদের অস্ত্রোপচার, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, হাসপাতালে অবস্থান ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী স্পিচ থেরাপি বিনা মূল্যে দেওয়া হবে।
ডা. আরিফ উল হাসান বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতা ও চিকিৎসাসুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করাতে পারেন না। তাঁদের চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশেষ করে শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডা. আরিফ উল হাসান এর আগে কয়েকটি জটিল অস্ত্রোপচারের কারণে আলোচনায় আসেন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে এক নারীর পেট থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের টিউমার অপসারণ করেন তিনি। একই বছরের জুনে আরেক নারীর পেট থেকে প্রায় ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়। গত ৭ আগস্ট শাহরাস্তির একই হাসপাতালে ৩৬ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়। ওই নারীর পেটে সেটি ছিল পঞ্চম অস্ত্রোপচার।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে এক রোগীর পায়ুপথে আটকে থাকা ডাব অস্ত্রোপচার ছাড়াই বের করার ঘটনাতেও আলোচনায় আসেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহজলভ্য হবে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিশুরা এ সেবায় উপকৃত হবে।
