Published on
:
2 min read
দিব্যেন্দু সরকার, আরামবাগ
শারদোৎসবের আনন্দ যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়, কোনও পড়ুয়া যেন আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পুজোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, এই মানবিক ভাবনাকে সামনে রেখেই আগমনী উৎসবের আয়োজন করল রামনগর অতুল বিদ্যালয়। আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো মহিষাসুরমর্দিনী পরিবেশন-সহ বর্ণাঢ্য আগমনী উৎসব। পাশাপাশি, স্কুলের আর্থিক ভাবে অসচ্ছল পরিবারের পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হলো পুজোর নতুন পোশাক। স্কুলের এই উদ্যোগে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি ফুটে উঠল সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিকতা ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ছবি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে স্কুলের উদ্যোগে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মহিষাসুরমর্দিনী পরিবেশনা ও আগমনী উৎসব। দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘিরে বাঙালির চিরাচরিত আবেগ, আনন্দ ও উৎসবের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। ছাত্রছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে। তাদের উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং অংশগ্রহণে গোটা অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তবে এর বিশেষ তাৎপর্য শুধু সাংস্কৃতিক উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। উৎসবের আনন্দকে সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আর্থিক ভাবে অসচ্ছল পরিবারের পড়ুয়াদের নতুন পোশাক উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ জন ছাত্রছাত্রীর হাতে পুজোর নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়। পুজোর আগে স্কুলের এই উদ্যোগ তাদের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি, উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এ প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত আঢ্য বলেন, ‘দুর্গাপুজো বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। এই উৎসবের আনন্দ যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনও ছাত্রছাত্রী যেন পুজোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই ভাবনা থেকেই আমরা স্কুলের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য, সমাজের সমস্ত শ্রেণি ও বর্ণের মানুষ একসঙ্গে পুজোর আনন্দ উপভোগ করুন। পুজো সবার, আনন্দও সবার—এই বার্তাই আমরা পড়ুয়াদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই।’
বিদ্যালয়ের এই কর্মসূচির মূল সুর ছিল ‘এবার পুজো সবার পুজো।’ সমাজে আর্থিক বৈষম্য থাকলেও উৎসবের আনন্দের ক্ষেত্রে কোনও ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। প্রত্যেক শিশুর মুখে হাসি ফোটানো এবং সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই উৎসবের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। রামনগর অতুল বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ সেই মানবিক বার্তাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল। সব মিলিয়ে, মহিষাসুরমর্দিনীর আরাধনা, আগমনী উৎসব এবং অসচ্ছল পরিবারের পড়ুয়াদের হাতে পুজোর নতুন পোশাক তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে রামনগর অতুল বিদ্যালয় শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনই করেনি, বরং সমাজের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতারও পরিচয় দিয়েছে।
