রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিরাপত্তাহীনতা, প্রাণনাশের হুমকি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পাঁচ দফা দাবি আদায়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) এ কর্মসূচি পালন করছে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সংগঠনটির সভাপতি ডা. এস এম তপু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন ভর্তি ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের অবহেলার কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়মিত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এমনকি তাদের সংঘবদ্ধ হুমকির শিকারও হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, ইতোমধ্যে একাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। রোগীর স্বজনদের হুমকির মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে সাধারণ পোশাকে ওয়ার্ড ছাড়তে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে হাসপাতালের অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু না থাকায় ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। সীমিত জনবল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের মধ্যে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের। এসব সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, একজন রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজনের প্রবেশের নিয়ম কার্যকর করা, রোগী ভর্তির দিন ও পরবর্তী দিন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোতে আনসার সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা।
ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. এস এম তপু বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিরাপত্তার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া আমাদের অন্য দাবিগুলোও যৌক্তিক। দাবি মেনে নেওয়া হলে আমরা আবার ডিউটিতে ফিরে যাব।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. মো. শামীমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
