চট্টগ্রামে সাংবাদিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধর করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় এক আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মামলার এজাহারভুক্ত আট নম্বর আসামি মো. আরিফ হোসেন (২৬) এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। আরিফকে হালিশহর থানাধীন বউবাজার এবং ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে বড়পুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে বুধবার বিকেলে হালিশহর থানাধীন রমনা আবাসিক এলাকায় সাংবাদিককে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরও ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ফাঁসাতে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টাও করা হয়। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার হালিশহর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবুল হোসাইন। আবুল হোসাইন স্থানীয় দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।
বিজ্ঞাপন
হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, মামলা দায়েরের পরপরই প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিকাশ লেনদেনের তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে অন্য অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর বিকেলে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে হালিশহর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রমনা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে গেলে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল সাংবাদিক আবুল হোসাইনকে ঘিরে ধরে। পরে অবৈধ কাজে সেখানে উপস্থিত হওয়ার ভুয়া অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পিস্তল ও ছুরির ভয় দেখিয়ে পাশের নির্জন আরেকটি রাস্তায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে তার পকেটে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর আদায় করা হয়। এরপর তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ০১৩৫২০২৬৭১১ নম্বরে ওইদিন বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৫টা ৪৬ মিনিটে একই নম্বরে আরও ২০ হাজার টাকা ‘সেন্ট মানি’ করে নেওয়া হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় ০১৯৭৭৭২৮৪৬০ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা এবং ৬টা ৩ মিনিটে ০১৮৫৯৯৭৬৮৯১ নম্বরে চার হাজার ৮০০ টাকা ক্যাশ আউট করা হয়। সব মিলিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরও তাকে ছাড়েনি অভিযুক্তরা। তাকে সামাজিকভাবে হেয় ও ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে হাতে কনডমের প্যাকেট ধরিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। পরে সেসব বক্তব্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে বা আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সাংবাদিক আবুল হোসাইন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাকে জিম্মি করা হয়েছে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা ও বিকাশ থেকে অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে জোর করে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। মুক্তি পাওয়ার পর স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় মামলা করেছি। পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে, তবে হাতিয়ে নেওয়া টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি।
বিজ্ঞাপন
হালিশহর থানার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হালিশহর থানার এফআইআর নম্বর ৮, তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ এবং জিআর নম্বর ১৫৬-এর মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় নথিভুক্ত হয়েছে। ওসি মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডলের নেতৃত্বে এসআই মো. মঞ্জুসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ১৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে বৌ-বাজার এলাকা থেকে আরিফ হোসেনকে এবং রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে বড়পুল এলাকা থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে গ্রেফতার করে।
এমডিআইএইচ/এসএনআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
