প্রতিদিন নদীগর্ভে যাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চান বাসিন্দারা
ফেরদৌস আলম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
- আপডেট সময় : ০৮:৪০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার জিগাবাড়ি গ্রামে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন বাসিন্দারা।
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে বিলীনের মুখে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দুর্গম এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ি গ্রাম। ইতোমধ্যে গ্রামের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় অন্তত ৩০টি পরিবার বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। ভাঙন থেকে গ্রাম রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা শেষে ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করলে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে। এবারও নদীর গ্রাসে চলে গেছে বসতভিটা, গাছপালা ও আবাদি জমি। ভাঙন এখন গ্রামের চলাচলের একমাত্র মেঠোপথ ও আশপাশের বাড়িঘরের কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জিগাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল মিয়া (৩৫) বলেন, “রাতে ঘুমাতে পারি না, শুধু ভাঙনের শব্দ শুনি। জমিজমা আগেই নদীতে গেছে। এখন শুধু ভিটাটুকু আছে, সেটিও ভাঙনের মুখে। সরকার দ্রুত স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা না করলে আমাদের পথে বসতে হবে।”
একই গ্রামের গৃহিণী রাবেয়া বেগম (৩৮) বলেন, “নিজের চোখের সামনে বাপ-দাদার ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হতে দেখা অনেক কষ্টের। ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোথায় যাব, কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। আমরা শুধু ত্রাণ চাই না, স্থায়ী বাঁধ চাই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর নদীভাঙনে এ এলাকার বহু পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, জিগাবাড়ির ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে এত বড় সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। দ্রুত টেকসই উদ্যোগ না নিলে পুরো গ্রাম রক্ষা করা কঠিন হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটা হারিয়ে বহু পরিবারকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবে।

