জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতিসংক্রান্ত মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা দূর হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২ জুলাই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে রায় দেন।
২০১৭ সালে জাতীয়করণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনা করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, গ্রেডেশন তালিকা প্রণয়ন, প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল এবং বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেন।
২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট বিধির একটি অংশ বেআইনি ঘোষণা করেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরাও আপিল বিভাগে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে রায় দেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, আপিল মঞ্জুর হওয়ায় প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি বাধা দূর হয়েছে। এ রায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
