আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতি বছরের মতো এ বারও ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দই যে তাঁর শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়াবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি হাওড়ার উত্তর সালকিয়ার বাসিন্দা ৬৬ বছর বয়সি বিকাশ ভট্টাচার্য। শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো প্যান্ডেলে দর্শনার্থীদের হুড়োহুড়ি ও ভিড়ের চাপে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। এই ঘটনায় সরাসরি পুজো কমিটির গাফিলতি এবং রাজ্য প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন মৃতার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অবিবাহিত বিকাশবাবুর ঠাকুর দেখার তীব্র নেশা ছিল। প্রতি বছর দুর্গাপূজা বা অন্য উৎসবে একাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গোটা কলকাতা চষে ফেলতেন এবং সমস্ত বড় পুজো ঘুরে দেখতেন। গত শনিবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ তিনি উত্তর কলকাতার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা দেন। কিন্তু সন্ধ্যা গড়ালেও বাড়ি না ফেরায় শুরু হয় উদ্বেগ।
সন্ধ্যায় বিকাশের ভাই তাপস ভট্টাচার্যের কাছে পুলিশের ফোন আসে। তাঁকে জানানো হয়, দাদা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা ফোনে জানানো হয়নি। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে নিয়ে তাপসবাবু কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সাদা চাদরে ঢাকা রয়েছে তাঁর দাদার মরদেহ।
এই চরম শোকের মুহূর্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিকাশবাবুর ভাই তাপস ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টির সময় প্যান্ডেলে প্রচুর মানুষের ভিড় জমেছিল। প্রবেশ ও বেরোনোর রাস্তা অত্যন্ত সরু থাকা এবং প্যান্ডেলের মধ্যে পর্যাপ্ত আলোর অভাব ও অন্ধকারের কারণেই এই মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে দাবি তাঁর। চোরবাগানের এই মৃত্যুমিছিলের জন্য পুজো কমিটি ও প্রশাসনের যৌথ দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আশীষ রায়ও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, তাঁদের বাড়ির পাশের এমন এক চেনা মানুষের আকস্মিক মৃত্যু বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন শোকার্ত প্রতিবেশীরা। গোটা ঘটনায় দুর্গাপূজার ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে গেল।
