শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উত্তর-পূর্ব সীমান্তে প্রায় আড়াই হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জামালপুর থেকে ফেনী পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবির ১৩টি ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করছে। এ অঞ্চলে বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় থাকা ৬৬৬টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী রাধামাধব মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ও সরাইল রিজিয়ন সদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, বিজিবিএম।
তিনি জানান, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ১২৮ প্লাটুন বা প্রায় দুই হাজার ৫০০ বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সব কটি পূজামণ্ডপে ইতোমধ্যে রেকি সম্পন্ন হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে স্থাপন করা হয়েছে আটটি বেস ক্যাম্প। এর মধ্যে সরাইল ব্যাটালিয়নের রয়েছে তিনটি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা সমন্বয়ে পুলিশ, আনসার ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। পূজার সময় সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো যৌথ টহল পরিচালনা করবে। মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যে বিজিবির টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কোনো ধরনের হুমকি নেই এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। মন্দির কমিটিগুলোকে বিজিবি সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সীমান্ত চৌকির (বিওপি) মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।
পূজা-সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি বা পুলিশকে জানানোর জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এদিকে মন্দির কমিটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, এবারও পূজা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় সরাইল ব্যাটালিয়নের (২৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ, রিজিয়ন সদর দপ্তরের অপারেশন পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল হক, পিপিএম, পিএসসি এবং সরাইল ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মো. হাসানুজ্জামানসহ বিজিবির অন্য সদস্য ও মন্দির কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
