ছবি: সংগৃহীত
-->কোনো নাম শুনে যদি কেউ বলে ওঠে, একে তো চিনি না, তা হলে তার জবাবে কী বলা উচিত? আল্লাহ এর উত্তর দিয়েছেন একটি পুরো সুরা দিয়ে, যার শুরুতেই আছে তাঁর সবচেয়ে মমতাময় নাম: আর-রহমান।
সুরা আর-রহমানের প্রথম দুই আয়াতে বলা হয়েছে, পরম করুণাময় আল্লাহ মানুষকে কোরআন শিখিয়েছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সুরা শুরু হয়েছে ‘রহমান’ নামে, আর প্রথম নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কোরআনের শিক্ষাকে। অর্থাৎ আল্লাহর রহমতের সবচেয়ে বড় প্রকাশ হলো মানুষকে পথ দেখানো।
আয়াত নাজিলের কারণ
সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ বলে অধিকাংশ মুফাসসির মত দিয়েছেন। তখন মুসলমানরা ছিলেন সংখ্যায় কম, আর কুরাইশ নেতারা প্রতিটি বিষয়ে আপত্তি তুলত। আল্লাহর একত্ববাদ নিয়ে তাদের অস্বস্তি ছিল, এমনকি তাঁর নামগুলো নিয়েও। এই পরিবেশেই আল্লাহর অনুগ্রহ ও ক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরতে সুরাটি নাজিল হয়।
শানে নুজুল
তাফসিরে কুরতুবিতে বর্ণিত আছে, কাফেররা মুসলমানদের মুখে রহমান শব্দ শুনে বলাবলি করত, রহমান আবার কী? আমরা তো রহমানকে চিনি না। তাদের এই অজ্ঞতা দূর করতে এবং আল্লাহর পরিচয় স্পষ্ট করতেই আয়াতগুলো নাজিল হয়। এ বিষয়ে সুরা ফুরকানের ৬০ নম্বর আয়াতেও অনুরূপ প্রসঙ্গ এসেছে। তবে মুফাসসিররা বলেন, আয়াতের শিক্ষা কোনো ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়।
আজও অনেকে আল্লাহকে শুধু শাস্তিদাতা হিসেবে ভাবে, আবার অনেকে তাঁকে একেবারেই ভুলে থাকে। এই সুরা বলছে, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, কথা বলতে শিখিয়েছেন, সূর্য-চাঁদ-গাছপালায় সাজিয়েছেন, তিনি অসীম দয়ালু। সুরার বারবার ফিরে আসা প্রশ্ন, তোমরা তোমাদের রবের কোন নিয়ামত অস্বীকার করবে? আমাদের কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়তে শেখায়।
কোরআন তাই শুধু পড়ার গ্রন্থ নয়; এটি রহমানের পক্ষ থেকে পাঠানো সবচেয়ে বড় উপহার। এর কদর করাই সেই করুণার প্রতি যথার্থ জবাব।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
