মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, ঢাকা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে ৬ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১২ থেকে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে ইয়াবা পরিবহন, মজুত ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করা হয়। এ সময় মাদক বহন ও ব্যবসায় ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল থানাধীন আরামবাগ সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে থেকে আবদুর রহিম (৬২) ও ফোরকান মাহমুদ (৩২) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বহন করা ব্যাগ তল্লাশি করে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসার কথা জানায়।
এরপর তার তথ্যের ভিত্তিতে কদমতলী থানাধীন স্মৃতিধারা, ২৪ ফুট, ২ নম্বর রোড, জিয়া স্মরণী এলাকার একটি ভাড়াবাসায় অভিযান চালিয়ে সাইফুল ইসলাম বাবু (৩২) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বসতঘরের আলমারির গোপন ড্রয়ারে রাখা একটি ব্যাগ থেকে ২ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকার বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে বিক্রির কথা জানায়।
সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর বনানী থানাধীন মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় কুন্তুরী রেস্টুরেন্টের সামনে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে মোঃ লিটন মিয়া (৩৫) ও মোঃ আবদুল আজিজ (৩৯) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ২ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঢাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে সরবরাহের কথা জানায়।
সব মিলিয়ে অভিযানে ৬ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মাদক সংগ্রহ, পরিবহন, মজুত ও সরবরাহের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা দায়েরের জন্য এজাহার দাখিল করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে।
মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও বিস্তার রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
