ঢাকের শেষ বোল, উলুধ্বনি আর অশ্রুসজল চোখের বিদায়ের মধ্য দিয়ে খুলনার জেলখানা ঘাটে পর্দা নেমেছে শারদীয় দুর্গোৎসবের। পাঁচ দিনের আনন্দ-উৎসব শেষ করে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে ঘাটে উপচে পড়া ভিড় জোন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। বিদায়ের এই বিষাদের মাঝেও সবার হৃদয়ে এখন কেবলই আরেকটি বছরের জন্য অপেক্ষা।
বিজয়া দশমীর দিনে ভক্তদের মাঝে ছিল একদিকে আনন্দের আমেজ, অন্যদিকে প্রিয় দেবীকে বিদায় দেওয়ার গভীর বেদনা। জেলখানা ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। ঢাকের তালের সঙ্গে উলুধ্বনি ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় দেবীকে মর্ত্য থেকে বিদায় জানান ভক্তরা। নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে ঘাট এলাকা এক আবেগপ্রবণ রূপ নেয়।
এর আগে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়, সিঁদুর খেলা এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসবের দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা ও ভক্তদের সমাগমে মুখর ছিল চারপাশ। বিসর্জনের সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সেই উৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তদের মনে রয়ে গেছে উৎসবের মধুর স্মৃতি।
ভক্তদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অটুট সৌহার্দ্যের বন্ধন বজায় রেখেই আগামী বছরগুলোতেও খুলনা অঞ্চলে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে।
