৩৩ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৩০ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন রিপোর্ট
বিকেলে জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৩য় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মামলাটিকে ছয় মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মামলা বলে মনে করেছিলেন জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা।
আজ রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে এ তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, সৌদি আরবের কারাবন্দিদের তালিকায় ব্যবহৃত শ্রেণিবিন্যাসের কারণে কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, ওই দুই বাংলাদেশির ছয় মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। দুজন যে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি, তা মিশনের কর্মকর্তারা বুঝতে পারেননি।
এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জবাব পাওয়ার পর তা অবহিত করতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।
জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, ত্রুটি পাওয়া গেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়েও কমিটি প্রতিবেদন চেয়েছে।
কমিটিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর ঢাকাকে আগাম না জানিয়েই সৌদি আরবে ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
আলাদা দুটি অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ওই দুই বাংলাদেশি সৌদি আরবে আটক ছিলেন। তাদের একজনের বিরুদ্ধে ‘সাইবার অপরাধ’ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে ‘ব্যভিচারের’ অভিযোগ আনা হয়েছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় ১৪ দিন আগে সৌদি আরব প্রায় ২ হাজার ৫০০ বন্দির একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় দুই বাংলাদেশির নাম থাকলেও তাদের মামলার বিষয়টি যথাযথভাবে শনাক্ত করা হয়নি।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, মিশন কেন আগে পদক্ষেপ নেয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো গাফিলতি বা ঘাটতি ছিল কি না, তা জানতে চেয়েছেন কমিটির সদস্যরা।
তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তাহলে আমাদের আগে জানানো হলো না কেন?’
এ ঘটনা পুরো প্রক্রিয়ার দুর্বলতা তুলে ধরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ১৪ দিন আগে তথ্য বিনিময়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জহরত বলেন, মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে যে প্রতিবেদনটি যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়নি।
নারী গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতন
বৈঠকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নির্যাতনের প্রসঙ্গ নিয়েও আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী কর্মীদের প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হন। এ ধরনের ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে বলেছে কমিটি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জহরত জানান, মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার বাংলাদেশি নারী কর্মী কর্মরত আছেন।
কমিটিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে মিশনে গেলে কর্মীদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও জরিপ চালানো হয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ১ হাজার ৩৬৪ জন নারী গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
জহরত বলেন, ‘১ থেকে ২ শতাংশ শুনতে কম মনে হলেও ১ হাজার ৩৬৪টি ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে কর্মরত নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী ও সানজিদা ইসলাম অংশ নেন। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
