পটুয়াখালীর বাউফলে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের নামে নৌ পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া, আটক জেলেদের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং জব্দ করা জাল ও মাছ গোপনে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন, বাতিরখাল, চরওয়াদেল, চরকলাইয়া ও চরশৌলা এলাকায় অনুসন্ধানে স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের কাছ থেকে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযোগ রয়েছে, কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার, এএসআই কবির হোসেন এবং পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীর মাধ্যমে জেলেদের সঙ্গে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নদীতে মাছ ধরার সুযোগ পান জেলেরা।
গত ১৯ অক্টোবর বিকেলে চরফেডারেশন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, নৌ পুলিশের টহল ট্রলারের কাছেই একাধিক জেলে ট্রলার থেকে নদীতে জাল ফেলা হচ্ছে। কয়েকটি ট্রলার মাছ ধরে পুলিশের পাশ দিয়ে চলে গেলেও তাদের আটক করা হয়নি।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া জব্দ করা জাল দেড় হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং মাছ ৪০০ থেকে ৬ হাজার টাকা হালি দরে বিক্রি করা হয়।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের এক জেলের দাবি, গত ১৮ অক্টোবর চারটি ট্রলারসহ কয়েকজনকে আটক করে নৌ পুলিশ। পরে ট্রলারপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা হিসাবে মোট ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরেক জেলে শাহিন অভিযোগ করেন, তাঁর মুক্তির জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। তাঁর জব্দ করা জালও ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৪ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ২২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ১১টি নিয়মিত মামলায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, টাকার বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। তবে অসচ্ছল জেলেদের মানবিক কারণে কখনো কখনো আটক করা হয় না।
এএসআই কবির হোসেনও টাকা নিয়ে জেলে ছেড়ে দেওয়া এবং জব্দ করা জাল ও মাছ বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বাউফলের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথভাবে অভিযান পরিচালনার কথা। কিন্তু নৌ পুলিশ পৃথকভাবে অভিযান চালানোয় সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
বরিশাল অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হক বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
