বিজেপির অভিযোগ / ভারতে ‘বাংলাদেশের মত নৈরাজ্য’ চাইছেন রাহুল গান্ধী
ভারতে ‘বাংলাদেশের মতো নৈরাজ্য’ সৃষ্টি করে কেন্দ্রের ক্ষমতায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তার অনুসারীরা—এমন অভিযোগ করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলটির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এ অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরার একটি কথিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার দাবি, বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা বলেছেন নেহা বোরা। ভান্ডারি অভিযোগ করেন, নেহা বোরার বক্তব্য এবং রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক প্রতিবাদ মিছিলে তার উপস্থিতি প্রমাণ করে, ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে কেন্দ্রের ক্ষমতায় পরিবর্তন আনার ষড়যন্ত্র করছে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর অনুসারীরা। বিজেপির এই মুখপাত্রের দাবি, এক সাক্ষাৎকারে নেহা বোরা বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত এবং বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা ভারতেও হওয়া উচিত। ভান্ডারি বলেন, ‘এগুলো নেহা বোরার কথা হলেও রাহুল গান্ধীরই মতামত।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে বাংলাদেশের মতো জেন-জি আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ‘ক্ষমতার পরিবর্তন’। ভান্ডারির ভাষ্য, এটি রাজনৈতিক প্রতিরোধ নয়; বরং নৈরাজ্যপূর্ণ মিছিল ও বিদ্রোহ। তার দাবি, রাহুল গান্ধীর লক্ষ্য গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানানো নয়, বরং নৈরাজ্যকে বৈধতা দেওয়া। এর মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপির এই নেতা আরও বলেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় ফিরতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি কথিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিজের পরিবারকে আবারও ক্ষমতায় আনতে চাইছেন। তবে বিজেপির এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কংগ্রেস বা নেহা বোরার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতা: সমস্যা কোথায়, করণীয় কি?
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা নতুন করে প্রবাসী সমাজে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কেউ নতুন ভিসা পেতে সমস্যায় পড়ছেন, কেউ নবায়ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন, আবার কেউ ছুটিতে বাংলাদেশে এসে ভিসা বাতিলের খবর পেয়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। তবে এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গেলে শুধু ভিসা বাতিলের সংখ্যা কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে তাকালেই হবে না; দেখতে হবে ভিসার শর্ত, অভিবাসনবিধি, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং প্রবাসীদের ব্যক্তিগত দায়িত্বের বিষয়গুলোও। আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ নিয়মিত চাকরি করেন, ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং পরিবারের ভরণপোষণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। তাঁদের অনেকেই বছরের পর বছর বৈধভাবে বসবাস করে দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। কিন্তু কিছু ব্যক্তির অনিয়ম, জাল কাগজপত্র ব্যবহার কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা পুরো বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এর প্রভাব বৈধভাবে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক নতুন আবেদনকারীদের ওপরও পড়ার আশঙ্কা থাকে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান বোঝার জন্য রেমিট্যান্সের পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৮.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই এসেছে প্রায় ২.৭৫ বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক লেনদেন এবং অসংখ্য পরিবারের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে আমিরাত থেকে এসেছে প্রায় ৫০৫.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই সময়ে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসায় আমিরাত ছিল দেশভিত্তিক তালিকার চতুর্থ স্থানে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেমিট্যান্সের উৎস। এই আয় পাঠানোর পেছনে রয়েছেন অসংখ্য বাংলাদেশি শ্রমিক, কর্মী ও ব্যবসায়ী, যাঁদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ ভিসার স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। ভিসা আবেদন একটি আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। আবেদনকারীর পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির তথ্য, নিয়োগকর্তার নথি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জাল সনদ, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, ভুল তথ্য কিংবা অসাধু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা প্রত্যাখ্যান, নবায়নে জটিলতা কিংবা অন্যান্য আইনি সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জাল কাগজপত্র বা প্রতারণার মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা বৈধভাবে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক অন্যদের জন্যও সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে যাচাই-বাছাই আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে প্রকৃত যোগ্যতা ও বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও অন্য আবেদনকারীদের অতিরিক্ত যাচাই কিংবা দীর্ঘসূত্রতার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ভিসা জটিলতার কারণ হিসেবে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। কিছু বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী বা ‘স্কিলড’ ক্যাটাগরিতে ভিসা নিয়ে নির্দিষ্ট পেশায় কাজ করার চুক্তি করলেও বাস্তবে অন্য ধরনের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে কর্মীর যোগ্যতা, ভিসায় উল্লেখিত পেশা, নিয়োগকর্তার তথ্য এবং প্রকৃত কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও কাজের অনুমতি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সতর্কতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়েরই উচিত চুক্তির শর্ত মেনে চলা এবং কাজ বা পেশা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। প্রবাসীদের মধ্যে ভিসার শর্ত সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণাও কখনো কখনো জটিলতা বাড়ায়। উদাহরণস্বরূপ, আমিরাতের সাধারণ নিয়মে আবাসিক ভিসাধারী কেউ টানা ১৮০ দিনের বেশি দেশের বাইরে থাকলে সাধারণত তাঁর আবাসিক অনুমতি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এ নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে এবং ভিসার ধরন ও ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধান ভিন্ন হতে পারে। তাই ছুটিতে বাংলাদেশে যাওয়ার আগে নিজের ভিসার শর্ত যাচাই করা, প্রয়োজন হলে নিয়োগকর্তা বা স্পনসরের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত তথ্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ভিসা ও অভিবাসনবিধি ছাড়াও স্বাগতিক দেশের জননিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা এবং অনুমতিহীন সমাবেশ-সংক্রান্ত আইন মেনে চলা বিদেশি নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দেশে বসবাসের অর্থ শুধু চাকরি করা বা ব্যবসা পরিচালনা নয়; সেই দেশের আইন ও সামাজিক নিয়মের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ, অনুমতি ছাড়া সমাবেশে অংশগ্রহণ কিংবা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে গুরুতর পরিণতি হতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিভিন্ন নামে-বেনামে গড়ে ওঠা সংগঠন, রাজনৈতিক দলের শাখা এবং মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও আলোচনায় রাখা প্রয়োজন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। তবে অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের ক্ষেত্রে এমন কর্মকাণ্ড একই মাত্রায় দেখা যায় না। প্রবাসে সংগঠন গঠন কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা নিজে থেকেই অপরাধ নয়; কিন্তু এসব কার্যক্রম আমিরাতের প্রচলিত আইন, অনুমতির শর্ত ও জনশৃঙ্খলার বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি। অসংখ্য সংগঠন, রাজনৈতিক দলের শাখা এবং মাত্রাতিরিক্ত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন এসব সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নিয়ে। বিশেষ করে অনুমতি ছাড়া সভা-সমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা আইনবিরোধী সাংগঠনিক তৎপরতা ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের জন্য আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। কোনো সংগঠনের কর্মকাণ্ডের কারণে যেন সাধারণ ও আইন মেনে চলা বাংলাদেশি প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, ভিসা কিংবা সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। যেমন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আমিরাতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনায় ৫৭ জন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কঠোর সাজা ঘোষণার ঘটনা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ওই ঘটনায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫৩ জনকে ১০ বছর এবং একজনকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আমিরাতের প্রেসিডেন্ট তাঁদের ক্ষমা করেন এবং দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়ার নির্দেশ দেন। ঘটনাটি প্রবাসীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। স্বাগতিক দেশের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো অসাধু দালাল ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতারণা। বিদেশে চাকরি কিংবা ভিসার আশায় অনেক মানুষ তাঁদের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করেন। কেউ কেউ ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, অবাস্তব বেতনের প্রতিশ্রুতি কিংবা দ্রুত ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাসে প্রতারিত হন। কেউ প্রয়োজনীয় নথি যাচাই না করেই অর্থ দিয়ে বসেন, আবার কেউ জানেন না যে তাঁদের হয়ে জমা দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা কতটা জরুরি। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে অনুমোদিত নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং ভিসা বা চাকরির তথ্য সরকারি বা অনুমোদিত সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও কনস্যুলেট এবং জনশক্তি নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব রয়েছে। বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের জন্য সহজবোধ্য তথ্য ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা যেতে পারে। কোন ধরনের ভিসায় কী শর্ত প্রযোজ্য, চাকরির চুক্তিতে কী কী বিষয় যাচাই করতে হবে, নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করলে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যা হলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, এসব তথ্য বাংলায় সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া দরকার। আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। গুজবের পরিবর্তে যাচাইকৃত তথ্য প্রচার, ভিসা-সংক্রান্ত নিয়মের ব্যাখ্যা এবং প্রতারণার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। কোনো ভিসা বাতিলের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে যাচাই ছাড়াই সেটিকে সবার জন্য প্রযোজ্য নিয়ম হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। এতে অযথা আতঙ্ক ছড়ায় এবং অসাধু ব্যক্তিরা সেই সুযোগে প্রতারণার সুযোগ নেয়। একই সঙ্গে বৈধ প্রবাসীদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার বিষয়টিও উপেক্ষা করা যাবে না। কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিন নিয়ম মেনে বসবাসের পর ভিসা বাতিলের শিকার হলে তাঁর কাছে সিদ্ধান্তের কারণ জানার সুযোগ থাকা উচিত। ভুল তথ্য, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা অন্য কোনো সমস্যার কারণে সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তা পর্যালোচনার কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। যাঁদের অভিযোগের যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে, তাঁদের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। আর যাঁদের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাঁদের বিষয়টি আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে সরকার ও ব্যক্তির দায়িত্বকে একে অপরের বিপরীতে দাঁড় করানোও সমাধান নয়। সরকারকে কূটনৈতিক যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে কাজ করতে হবে। অন্যদিকে, প্রত্যেক প্রবাসীকে নিজের কাগজপত্রের সত্যতা, ভিসার শর্ত, চাকরির বৈধতা এবং স্বাগতিক দেশের আইন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতারণার আশ্রয় নিলে তার দায় নির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা উচিত; সেই দায় পুরো বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর ওপর চাপানো ন্যায়সংগত নয়। আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ তথ্য, দায়িত্বশীল আচরণ এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ। ভিসা বাতিলের প্রকৃত কারণগুলো চিহ্নিত করা গেলে কোন সমস্যার সমাধান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব, কোথায় প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন এবং কোথায় ব্যক্তিগত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা স্পষ্ট হবে। বিদেশে কর্মসংস্থান বাংলাদেশের লাখো পরিবারের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। তাই একজন প্রবাসীর অনিয়ম যেমন অবহেলার বিষয় নয়, তেমনি কোনো বৈধ প্রবাসীর ন্যায্য অধিকারও উপেক্ষা করা যায় না। জাল কাগজপত্র, প্রতারণা ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা যেমন প্রত্যেকের দায়িত্ব, তেমনি বৈধভাবে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক মানুষের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও জরুরি। ব্যক্তির অনিয়মের দায় ব্যক্তির ওপরই নির্ধারিত হোক, আর বৈধ প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসুক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই ভারসাম্যই হতে পারে ভিসা জটিলতা কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।

স্কুল চলাকালীন ভবনের ছাদ ধসে ৩৩ শিশু নিহত
পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদধসে নিহতেরে সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩২ জন শিক্ষার্থী ও এক নারী শিক্ষক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে ডন পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম সংবাদমাধ্যম ডনকে জানান, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ হয়েছে। আহত ১৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফাইজি জানান, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও অভিযান চালাচ্ছেন। এর আগে লেডি রিডিং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির ডনকে জানান, আল খায়ের স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ছিল। এতে অনেক শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। আটকে পড়াদের উদ্ধারে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং ছাদ ধসে পড়ার কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রদেশের গভর্নর আহত শিশুদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিন মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেন এক অভিভাবক সংবাদমাধ্যম ডনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামিউল্লাহ নামের এক অভিভাবক জানান, স্কুলের ছাদ ধসের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে তিনি আট বছরের কম বয়সী তিনটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেন। সামিউল্লাহ বলেন, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি বাড়ি থেকে ফোন পান। এর প্রায় ১০ মিনিট পর, সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তার ছয় সন্তান ওই স্কুলে পড়ে। তিনি আরো বলেন, ‘ভবনটি দেখে আমার মনে হয়েছিল, আমার ছেলেও মারা গেছে।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্কুলের ছাদ ধসের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। ইসহাক দার বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাদের এমন প্রতিটি মৃত্যু পুরো দেশের জন্যই এক দুঃখজনক ঘটনা।’ তিনি আরো বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

মদিনায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার আকাশে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানায় তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সামরিক জোটটির মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই প্রতিহত করার কথা নিশ্চিত করেন। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কে বা কারা ছুড়েছিল কিংবা এর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এমনকি এতে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবরও উল্লেখ করা হয়নি। সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হুতি গোষ্ঠীর লাগাতার হামলার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার পেছনেও হুতিদের দায়ী করেছিল এই সামরিক জোট। আল-মালিকির দেয়া তথ্যমতে, ওই হামলায় কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়লেও জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সরবরাহ সচল ছিল। উল্লেখ্য, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের ওপর আরেকটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল জোটটি। তার আগের দিনও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী কর্তৃক সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ অভিমুখে নিক্ষিপ্ত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছিল যৌথ বাহিনী। উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন জানিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে, ২০১৪ সাল থেকেই ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বেশ কয়েকটি প্রদেশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে হুতি গোষ্ঠী।

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের উদ্যোগ থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে গেলে কিয়েভ অনির্দিষ্টকালের জন্য পাল্টা হামলা বন্ধ রাখবে না। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের চালকবিহীন আকাশযানের হামলায় আগুন লাগে বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর পাভেল মালকভ। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বড় ধরনের এই হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এরপর ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা থেকে বিরত ছিল। বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে হামলাকে দায়ী করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছিল জেলেনস্কির। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিনি জানান, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ইউক্রেনের ধৈর্য শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘শোধনাগারে হামলার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা আর এটা চালিয়ে যাব না।’ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার ব্যবসায়িক চুক্তি করার আগ্রহ এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের ইতিবাচক মনোভাবেরও সমালোচনা করেন জেলেনস্কি। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) ট্রাম্প ইউক্রেনকে জেলেনস্কির পরিবর্তে নতুন নেতা বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলারও সমালোচনা করেন তিনি। ইউক্রেনের অভিযোগ, তারা রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আগাম সতর্কবার্তা পায়নি। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ডের যোগাযোগসেবা দেশজুড়ে ধীর হয়ে যাওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যক্রম এবং রাশিয়ার সামরিক স্থাপনায় মাঝারি পাল্লার হামলা ব্যাহত হয়েছে। তবে স্টারশিল্ডের গতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন ইলন মাস্ক। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এই সামরিক যোগাযোগব্যবস্থার মালিক ও নিয়ন্ত্রক যুক্তরাষ্ট্র সরকারই। এর গতি সীমিত করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তও তাদের। জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ না করলে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জেলেনস্কি বলেন, হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টিকে কিয়েভের কাছে শুরুতে কারিগরি সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে স্টারলিংক ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে এমনটি হয়েছে—এ ব্যাখ্যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষায়, ‘এটি কারিগরি সমস্যা ছিল না, এটি ছিল ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত।’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে জেলেনস্কিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আরও প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র পেলে তিনি এমন সিদ্ধান্তে রাজি হতে পারেন। তিনি এই সহায়তাকে গ্রহণযোগ্য সমঝোতার ন্যূনতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর ফেব্রুয়ারি থেকে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা কমানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত সপ্তাহে রাশিয়ার কাছ থেকে সীমিত পরিমাণে ডিজেল আমদানির জন্য কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার উদ্যোগও ঘোষণা করা হয়। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিয়েভের টানাপোড়েনের কারণে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সূত্র: রয়টার্স

