বাঙালির প্রিয় উৎসব বদলে গেল উৎ-শবে! সপ্তমী সন্ধ্যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে। ভারী বৃষ্টিতে মণ্ডপের ভিতরে দর্শনার্থী আটকে গিয়ে তুমুল বিশৃঙ্খলা ও হুড়োহুড়ির জেরে ৩৫ জনের বেশি পদপিষ্ট হয়। অধিকাংশের ভিড়ের চাপে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
কিন্তু কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? পুলিশের তরফে এখনও সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি। তবে প্রত্যেক্ষদর্শীদের কথায় একাধিক তত্ত্ব উঠে আসছে। এবার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোর ‘সুনাম’ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ভ্লগারদের দৌলতে। সেই সুনামের জেরে বিকেল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে চোরবাগানে। তারপরই আচমকা দুর্ঘটনা।
ঠিক কী হয়েছিল?
সন্ধে ৬টা ৩০ মিনিট
প্রবল ভিড় চোরবাগানে। দর্শনার্থীদের লাইন সেন্ট্রাল এভিনিউ ধরে মহাত্মা গন্ধী রোড মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত।
সন্ধে ৭টা
প্রচন্ড জোরে বৃষ্টি নামে। মণ্ডপে ঢোকার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়।
সন্ধে ৭টা ১৫ মিনিট
ধাক্কাধাক্কিতে মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ে। যে উঁচু কাঠামোর উপর মণ্ডপটি তৈরি হয়েছিল, তার থেকে নিচে নামার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়।
সন্ধে ৭টা ২০ মিনিট
এলিভেটেড করিডর থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পদপিষ্টের ঘটনা।
সন্ধে ৭টা ৪০ মিনিট
একের পর এক দেহ পৌঁছতে শুরু করে মেডিক্যাল কলেজে।
রাত ৯টা
মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, ডিজি, সিপি প্রমুখ।
এখানে প্রশ্ন অনেক। কেন এই দুর্ঘটনা? প্রথম দিন থেকেই চোরবাগানের ভিড় ব্যবস্থাপনা দিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এমনিতেই মণ্ডপটি সরু গলির ভিতরে। মণ্ডপে জায়গা কম। তার উপর দীর্ঘক্ষণ দর্শনার্থীদের আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ভিআইপি লাইন ম্যানেজমেন্টে বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সন্ধে ৭টা নাগাদ আচমকা বৃষ্টি নামায় একসঙ্গে বহু দর্শনার্থী মণ্ডপে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। বিপর্যয় শুরু সেখান থেকেই। ধাক্কাধাক্কিতে মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ে। সেসময় মণ্ডপ থেকে কিছু বিভ্রান্তিকর ঘোষণা হয় বলেও দাবি। তাতে বিভ্রান্তি বাড়ে। তবে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিপুল পরিমাণ ভিড় নিয়মিত হচ্ছে জানার পরও উপযুক্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল না। ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য যে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন স্বেচ্ছাসেবকদের সেটাও ছিল না। এমনকী দুর্ঘটনার পরও অ্যাম্বুল্যান্সের অভাব চোখে পড়েছে। যদিও পুলিশ সূত্রের দাবি, শুরু থেকেই পুলিশ প্রশাসন ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু ভিড় মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায়। বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
