সান্দাকফু থেকে ফেরার পথে টুমলিঙে আক্রান্ত হন হৃদরোগে। সেখানেই সব শেষ। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা বুবাই পালকে টুমলিং থেকে নিকটবর্তী হাসপাতাল পর্যন্ত জীবিত নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়ও জোটেনি পরিবারের কাছে। যতক্ষণ তাঁকে নীচে নামানো হয়, ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছিল বুবাইয়ের (৪৭)। স্বামীকে হারানোর পর দিশেহারা বুবাইয়ের স্ত্রী জয়িতা পাল। কী ভাবে সংসার সামলাবেন, কী ভাবে মেয়ের ভবিষ্যৎ গ়ড়বেন, তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকেও সাহায্য চেয়েছেন জয়িতা।
যে দিন বুবাইরা সান্দাকফু থেকে টুমলিঙে নেমে আসেন, তার দু’দিন পরেই ছিল তাঁদের মেয়ের জন্মদিন। কিন্তু সেই জন্মদিন আর দেখে যাওয়া হল না তাঁর। বারাসতের পাল পরিবার এ বার পুজোয় পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ স্থান সান্দাকফুতে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেই মতো গত ১৭ অক্টোবর শিয়ালদহ থেকে রাতের ট্রেনে পাড়ি দেন উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে। পরের দিন সকালে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছোন। এক রাত মানেভঞ্জনে এবং পরের রাত সান্দাকফুতে কাটিয়ে তাঁরা নেমে আসেন টুমলিঙে। সেখানেও রাত্রিবাসের কথা ছিল পাল পরিবারের। কিন্তু নৈশভোজের পরেই হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন বুবাই।
বারাসতের নপাড়া মা সারদা রোডের বাসিন্দা বুবাইয়ের একটি প্রসাধন সামগ্রীর দোকান রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর সব কিছু কী ভাবে সামলাবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না জয়িতা। টুমলিঙের সেই রাতের কথা উঠতেই বললেন, “সুস্থ মানুষ। সবই ভাল ছিল। কোনও প্রবলেম ছিল না। টুমলিঙে রাতেও নর্মাল খাওয়া দাওয়া করল। তারপর হঠাৎই গল্প করতে করতে একটু জল চাইল। সেই জল দিতে দিতেই উনি আমার আর মেয়ের হাতের উপর শরীরটা ছেড়ে দিলেন।”
টুমলিঙে যেখানে বুবাইরা ছিলেন, সেই হোম স্টে-তেই এক চিকিৎসক ছিলেন। জয়িতা জানান, ওই চিকিৎসক প্রথমে দেখেন বুবাইকে। তার পরে টুমলিং থেকে নীচে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও এক চিকিৎসককে দেখানো হয়। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছিল বুবাইয়ের। কাঁদতে কাঁদতে জয়িতা বলছেন, “উনি আমাদের সময়ই দিলেন না।”
বুবাই এবং জয়িতার একমাত্র মেয়ে এখন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ কী ভাবে সামলাবেন, তা ভাবতে ভাবতে দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে জয়িতার। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদন, এই কঠিন সময়ে মুখ্যমন্ত্রী যেন তাঁদের পাশে দাঁড়ান। মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
