মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই মৃত্যুবরণ করেছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। মরহুম আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন। জানাজায় শেষে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
জানাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন? পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মরহুম আব্দুল হাই ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থাশীল ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তৃণমূল পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং জনগণের সঙ্গে দলের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে মরহুম আব্দুল হাইয়ের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিএনপির রাজনীতিতে আব্দুল হাইয়ের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন? সময়ে দেশে স্বৈরাচার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন রাজপথের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার দৃঢ় অবস্থান ও রাজনৈতিক অবদান বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে বিএনপি একজন অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও আদর্শনিষ্ঠ নেতাকে হারাল। তার মৃত্যু দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
পৃথক শোকবার্তায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, মরহুম আব্দুল হাই ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসেবে তার পরিচিতি ছিল ব্যাপক। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর নীতি ও আদর্শে গভীরভাবে আস্থাশীল এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শণে বিশ্বাসী মরহুম আব্দুল হাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একজন আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। জনসেবার মহান লক্ষ্য সামনে নিয়ে রাজনীতি করতেন বলেই সংসদ সদস্য ও সরকারের মন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকাসহ সারাদেশের উন?য়ন ও অগ্রগতিতে তিনি ব্যাপক অবদান রাখেন। তিনি ছিলেন একাধারে প্রাজ্ঞ ও জনঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ এবং সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ হিসেবেও সর্বমহলে তার ছিল অকৃত্রিম গ্রহণযোগ্যতা। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চেতনাকে দৃঢ়ভাবে বুকে ধারণ করে মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে তার লড়াই ছিল অবিস্মরণীয়। তার মতো আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছি। আমি আব্দুল হাইয়ের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকার্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।
