কিশোরগঞ্জ শহরের নিউটাউন এলাকায় সৌদি আরবপ্রবাসী বাংলাদেশি ও তাঁদের স্বজনদের তথ্যসেবা দিতে গড়ে উঠেছে ‘সৌদি প্রবাসী তথ্য সেবা কেন্দ্র’। কেন্দ্রটিতে ইকামা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, কফিলের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ, জরিমানা ও মামলা-সংক্রান্ত তথ্য এবং সৌদি আরবে যাতায়াতের বিভিন্ন জটিলতা সম্পর্কে অনলাইনভিত্তিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. জাকির হোসেনের দাবি, এসব সেবা দেওয়া হয় বিনা মূল্যে।
রোববার সরেজমিনে কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়, সৌদি আরবে অবস্থানরত স্বজনদের বিভিন্ন সমস্যা ও ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতার তথ্য জানতে সকাল থেকেই সেখানে সেবাপ্রার্থীরা আসছেন। কেউ অপেক্ষা করছেন, কেউ নিচ্ছেন পরামর্শ। প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে স্বস্তি নিয়ে ফিরছেন অনেকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে আসা সুমন মিয়া বলেন, “ফেসবুকে ভিডিও দেখে আজ সকালে এখানে এসেছি। আট বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছিলাম। জাকির ভাই অনলাইনে যাচাই করে জানিয়েছেন, আমার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হতে আরও দুই বছর বাকি। তাঁর সেবার মান খুবই ভালো। আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি।”
নজরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন সেবাপ্রার্থী জানান, সৌদি আরবে যাতায়াতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন। কেন্দ্রটি থেকে বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ পেয়ে তাঁরা উপকৃত হয়েছেন।
নিউটাউন পশ্চিম তারাপাশা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, জাকির হোসেনের এই উদ্যোগের কারণে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তথ্যসেবা নিতে আসছেন। তাঁর ভাষ্য, সৌদি আরবে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যে ব্যয় হতে পারত, সেই তথ্য এখান থেকেই বিনা মূল্যে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা।
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে জাকির হোসেন বলেন, “সৌদি আরবে অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্যই এই উদ্যোগ নিয়েছি। প্রবাসীরা যেন কাগজপত্র-সংক্রান্ত জটিলতায় না পড়েন, সে জন্য ইকামা যাচাই, কফিলের নম্বর সংগ্রহ এবং জরিমানা ও মামলা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবা বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। প্রবাসী ও তাঁদের স্বজনেরা যেন প্রতারণা ও ভোগান্তি ছাড়াই প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন, সেটিই আমার মূল লক্ষ্য।”
প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি বিদেশযাত্রার আগে কাগজপত্র-সংক্রান্ত জটিলতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে কেন্দ্রটির উদ্যোগ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাপ্রার্থীরা।
এই বাংলা/এমএস
