মৌসুমের শুরু থেকে দারুণ ছুটছিল ম্যানচেস্টার সিটির। টানা আট ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ছিল এনজো মারেসকার দল। কিন্তু ইতিহাদে এসে সেই জয়ের রথে বড় ধাক্কা দিল পিএসজি। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বিরতির পর আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল সিটি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ম্যাচটি ছিল সিটির মৌসুমের প্রথম হার। আর এই জয় পিএসজিকে এনে দিয়েছে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয়।
ম্যাচটি দেখতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা। গত মৌসুম শেষে ক্লাব ছাড়ার পর এই প্রথম নিজের পুরোনো মাঠে ফিরেছিলেন তিনি। তবে তাঁর সামনে সাবেক দলকে এমন বিপর্যয়ে পড়তে দেখাটা নিশ্চয়ই স্বস্তির ছিল না।
মাঠের বাইরেও সিটির জন্য দিনটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ক্লাবটি। ১১৫ অভিযোগের ১১৪ টিতেই অভিযুক্ত হওয়ার সেই রায়ের পর নিজেদের মাঠে এটাই ছিল সিটির প্রথম ম্যাচ। গ্যালারিতে প্রতিবাদী আবহ থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে পিএসজিকে থামাতে পারেনি স্বাগতিকেরা।
দুই মিনিটে দুই গোল, প্রথমার্ধেই তিনবার জালে বল
ম্যাচের শুরুতে সিটির সামনে সুযোগ এসেছিল। কিন্তু গোলের খাতা খোলে পিএসজি। ১৩ মিনিটে দেজিরে দুয়ের নিচু শটে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। দুয়ের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে সিটির হয়ে নিজের ৩৭তম গোল করেন হলান্ড। তাতে ক্লাবটির হয়ে প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান তিনি, পেছনে ফেলেন সার্হিও আগুয়েরোকে। একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার রেকর্ডও গড়েন হলান্ড, সেটাও মাত্র ৬০ ম্যাচেই। এর আগে লিওনেল মেসির লেগেছিল ৮০ ম্যাচ।
দুই গোল হজম করে সিটি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে, তখন ৩২ মিনিটে তৃতীয় ধাক্কা আসে। ওয়ারেন জাইরে-এমেরির সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর গোল করেন ভিতিনিয়া। তাতে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পিএসজি।
হলান্ডের রেকর্ড, তবু সিটির প্রত্যাবর্তন অসম্পূর্ণ
বিরতির পর তিনটি পরিবর্তন আনেন মারেসকা। তাতে সিটির খেলায় গতি বাড়ে, আক্রমণও ধারালো হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধের আট মিনিটের মাথায় ব্যবধান কমান হলান্ড। ইলিমান এনদিয়ায়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার।
এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে সিটির হয়ে নিজের ৩৭তম গোল করেন হলান্ড। তাতে ক্লাবটির হয়ে প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান তিনি, পেছনে ফেলেন সার্হিও আগুয়েরোকে। একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার রেকর্ডও গড়েন হলান্ড, সেটাও মাত্র ৬০ ম্যাচেই। এর আগে লিওনেল মেসির লেগেছিল ৮০ ম্যাচ।
গোলের পর সিটির আত্মবিশ্বাস বাড়লেও পিএসজি দ্রুত জবাব দেয়। ৬২ মিনিটে ম্যাগনেস আকালিউশের শট প্রথমে ঠেকান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। কিন্তু ফিরতি বল গড়িয়ে জালে ঢুকে যায়। আবারও তিন গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সিটি।
তাতেও লড়াই ছাড়েনি স্বাগতিকেরা। ৭৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন হলান্ড। এরপর হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর আরেকটি প্রচেষ্টা অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন পিএসজির গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ। শেষ দিকে সিটির আরও কিছু আক্রমণ প্রতিহত করে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
শেষ পর্যন্ত পিএসজির দাপটই বড় হয়ে থাকল
পরিসংখ্যানে সিটির আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টার ছাপ ছিল স্পষ্ট। কিন্তু প্রথমার্ধে পিএসজির নিখুঁত ফিনিশিং আর দ্বিতীয়ার্ধে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই পার্থক্য গড়ে দেয়।
টানা আট জয়ের পর প্রথম হারের স্বাদ পেল সিটি। অন্যদিকে, ইতিহাদে চার গোলের জয় পিএসজির শক্তিমত্তার আরেকটি প্রমাণ।
