দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জয় তুলে নিয়েছে লিভারপুল। মঙ্গলবার রাতে নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের ধারা ধরে রেখেছে ইংলিশ ক্লাবটি।
ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যেই জর্জেস মিকাউতাদজে ও সের্হি কার্দোনার গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়াল। তখন মনে হচ্ছিল, কোচ ইনিগো পেরেস তার সাবেক গুরু আন্দোনি ইরাওলাকে হারিয়ে বড় চমক দেখাতে যাচ্ছেন।
কিন্তু বিরতির আগেই ম্যাচে ফেরে লিভারপুল। বক্সে ভেসে আসা ক্রস সামলাতে গিয়ে দুইবার ভুল করে ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রোনাল আরাউহো। তাতে প্রথমার্ধেই ২-২ সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।
ম্যাচ শেষ হতে তখনো ২৫ মিনিট বাকি। এর মধ্যেই নিজের দ্বিতীয় গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন ম্যাক অ্যালিস্টার। পরে বদলি হিসেবে নেমে ফ্লোরিয়ান ভির্টজ গোল করলে নিশ্চিত হয় লিভারপুলের ৪-৩ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়।
চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচে তিন জয়ে নয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের পাশে জায়গা করে নিয়েছে লিভারপুল।
রোববার প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচের কথা মাথায় রেখে প্রথম একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন ইরাওলা। আলেকজান্ডার ইসাক ও ব্র্যাডলি বারকোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ভির্টজকেও শুরুতে বেঞ্চে রাখা হয়।
এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ভিয়ারিয়াল। ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই লিভারপুলকে পিছিয়ে দেন মিকাউতাদজে। ভার্জিল ফন ডাইকের হেডে বল নিজেদের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের কাছে ফেরানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সেই সুযোগে কাছ থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান ভিয়ারিয়ালের ফরোয়ার্ড।
ইনিগো পেরেসের কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুটাও ছিল বেশ নাটকীয়। বোর্নমাউথে ইরাওলার সহকারী হিসেবে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু কাজের অনুমতি না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে রায়ো ভায়েকানোর দায়িত্ব নিয়ে গত মৌসুমে দলটিকে ইউরোপের কনফারেন্স লিগের ফাইনালে তুলেছিলেন পেরেস।
ইরাওলার কৌশল সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার লিভারপুলের রক্ষণে ফাটল ধরায় ভিয়ারিয়াল। দারুণ দলীয় আক্রমণের পর দ্বিতীয় গোলটি পায় তারা। বাঁ প্রান্তের রক্ষণভাগ থেকে নাথান সালিবা সামনে উঠে আসা কার্দোনাকে বল বাড়িয়ে দেন। সেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অ্যালিসনকে পরাস্ত করেন কার্দোনা।
আক্রমণভাগে লিভারপুলের বিকল্প খেলোয়াড়েরা তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারছিলেন না। তবে কস্তাস সিমিকাসের কর্নার থেকে উঁচু হেডে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান ম্যাক অ্যালিস্টার।
এরপর ভিয়ারিয়ালের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকেন ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা। বিরতির আগে তার ক্রস থেকেই সমতায় ফেরে লিভারপুল। বলের গতিপথ বুঝতে না পেরে কার্দোনা সেটি ছেড়ে দেন। পেছন থেকে ছুটে এসে হেডে গোল করেন উরুগুয়ের ডিফেন্ডার আরাউহো।
সমতাসূচক গোলটিই ছিল আরাউহোর শেষ অবদান। বিরতির সময় তাকে তুলে ভির্টজকে মাঠে নামান ইরাওলা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে গতি বাড়িয়ে দেয় লিভারপুল।
ডান প্রান্ত দিয়ে এনগুমোহার দুর্দান্ত গতির দৌড় ভিয়ারিয়ালের রক্ষণকে আবারও বিপদে ফেলে। তার নিচু ক্রস পেয়ে বল জালে পাঠান ম্যাক অ্যালিস্টার। ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে জালে ঢোকে বল। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে লিভারপুলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।
এর মাত্র তিন মিনিট পরই ব্যবধান বাড়ায় স্বাগতিকরা। কোডি গাকপোর পাস থেকে গোল করেন ভির্টজ। চলতি মৌসুমে এটিই ছিল তার প্রথম গোল। গোলের দেখা না পাওয়ায় সমালোচনার মুখে থাকা এই ফুটবলারের জন্য গোলটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ জবাব।
রক্ষণে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভিয়ারিয়াল। তবে ম্যাচের শেষ দিকে আবারও লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে তারা। আইয়োসে পেরেসের ক্রস থেকে দারুণ শটে গোল করে ব্যবধান কমান তানি ওলুসেই। তাতে শেষ মুহূর্তে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে।
তবে শেষ পর্যন্ত নিজেদের লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয় লিভারপুল। এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে ওঠার পথে আরও এগিয়ে গেল তারা।
অন্যদিকে, তিন ম্যাচে মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়ে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভিয়ারিয়ালকে। দুই গোলে এগিয়ে থেকেও জয় ধরে রাখতে না পারার আক্ষেপ এখন তাদের সঙ্গী।
