চট্টগ্রাম নগরীতে হাসপাতালকেন্দ্রিক যানজট নিরসন ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ২০ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট ভবন মালিককে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। একই অভিযানে সংলগ্ন খান ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে ২ লাখ টাকা।
বুধবার রাতে চউকের জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসনাত বিষয়টি জানিয়েছেন।
বারবার সতর্ক করা, সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং সরেজমিনে পরিদর্শনের পরও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চউক।
চউক সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যানজটমুক্ত, পরিকল্পিত ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মেহেদিবাগ থেকে প্রবর্তক হয়ে মির্জাপোল পর্যন্ত হাসপাতালকেন্দ্রিক যানজট নিরসনে বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করে পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে চউক। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় যানজট নিরসন ও পার্কিং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
গত ৬ আগস্ট ইবনে সিনা হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় গত ১৩ অক্টোবর পুনরায় হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এ সময় পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এর ধারাবাহিকতায় চউকের অথরাইজড অফিসার-১ ও স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ২০ লাখ টাকা, ভবন মালিককে ২০ লাখ টাকা এবং সংলগ্ন খান ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, আমি পিছু হটার লোক নই। আইন সবাইকে মানতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ার দায়িত্ব দিয়ে এই চেয়ারে বসিয়েছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিং নিশ্চিত করতে হবে। রোগীদের সেবা নিতে এসে যেন সাধারণ মানুষ যানজটের দুর্ভোগে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। বারবার সতর্ক করার পরও যারা সংশোধন করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরীর যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নাগরিকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় চউকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
