মাটির প্রতিমার উপরে চলছে ভুট্টা দানার নিখুঁত কারুকাজ। দেবী দুর্গার গায়ে যেন জড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোনালি রংয়ের আঁচড়। ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা তৈরি হচ্ছে নাটোর শহরের উত্তর চৌকিরপাড় এলাকার ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী রামচন্দ্র মন্দিরে।
শুধু দেবী দুর্গাই নন-লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ থেকে শুরু করে সিংহ ও অসুরের গায়েও নিপুণভাবে দেয়া হচ্ছে ভুট্টার আবরণ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সোনালী রঙের দ্যুতি ছড়াচ্ছে গোটা মণ্ডপ জুড়ে।
পূজার আয়োজক কমিটির একজন সদস্য বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে ভুট্টার প্রতিমা এবার হয়তো প্রথম হচ্ছে। আগে ধানের হয়েছে, পাটের হয়েছে- এমনকি মুগ ডালেরও হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাত ৯টা থেকে ৩/৪টা পর্যন্ত কাজ করছি। এখন পর্যন্ত আমাদের শুধু দুর্গার প্রতিমা বাকি আছে। বাদবাকি সবকিছুই শেষ।
একজন ভক্ত বলেন, আমরা খুব খুশি যে আমাদের মন্দিরে এবার এত সুন্দর ঠাকুর হচ্ছে, ভুট্টার ঠাকুর।
এছাড়া জেলা সদরের হরিশপুরের শ্রীধরপুর ঘোষপাড়া মন্ডপেও চলছে বিশেষ আয়োজন। সাবুদানা বসিয়ে সাজানো হচ্ছে প্রতিমা। কারিগরের পরম যত্নে ফুটে উঠছে অপূর্ব রূপ। আয়োজকদের মতে, প্রতিমা তৈরিতে ৮৫ কেজি সাবুদানা ব্যবহার হচ্ছে। ব্যতিক্রমী এমন প্রতিমা দেখে উচ্ছসিত ভক্তরা।
একজন ভক্ত বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসছে ঠাকুর দেখতে। আমরা অনেক আনন্দিত।
অন্য একজন বলেন, বহু মানুষ দেখার জন্য আসছে এবং আরও আসবে। প্রতিমা তো এখন সম্পন্ন হয় নাই। সম্পন্ন হলে আরও মানুষ আসবে।
নাটোরের সাতটি উপজেলায় ৩৫০টি মন্ডপে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
