ইলিশা-চরফ্যাশন মহাসড়ক
Copy Link-->প্রকাশিত: ১৯:১৩, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ আপডেট: ১৯:১৬, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ইয়ামিন হোসেন, ভোলা || রাইজিংবিডি.কম
বেপরোয়া গতিতে চলে সিএনজি চালিত অটোরিকশা। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ছবি: রাইজিংবিডি
ভোলার ইলিশাঘাট থেকে চরফ্যাশন ব্যস্ত এই আঞ্চলিক মহাসড়কে এখন চরম আতঙ্কের নাম। বেপরোয়া গতিতে চলে সিএনজি চালিত অটোরিকশা। আইনের তোয়াক্কা না করে নিত্যদিন গতি প্রতিযোগিতায় মেতে উঠছে এসব যানবাহন। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝরে যাচ্ছে অকাল প্রাণ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক এবং মালিকদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের অদম্য ক্ষমতার বলেই মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে প্রতিনিয়ত পার পেয়ে যাচ্ছেন অদক্ষ ও দায়িত্বহীন চালকরা।
অন্যদিকে, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থার অভাবে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্বজনহারা পরিবারগুলোর আর্তনাদে ইলিশা-চরফ্যাশন সড়কের বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। সম্প্রতি বেপরোয়া সিএনজি চালিত অটোরিকশা চাপায় বাবাকে হারিয়েছেন ইলিশার বাসিন্দা মাসুম।
তিনি বলেন, “বেপরোয়া সিএনজি চালিত অটোরিকশার গতিতে আমি বাবাকে হারিয়েছি। এই অপূরণীয় ক্ষতি আর স্বজন হারানোর ক্ষত আমাকে আজীবন বইতে হবে।”
স্থানীয় সাংবাদিক সফিক খান বলেন, “চলতি পথেই আমরা হারিয়েছি আমাদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম জসিমসহ আরো চার জনকে। এসবই হয়েছে সিএনজি চালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া গতির কারণে।”
একই ট্র্যাজেডির শিকার এনজিও কর্মী কামাল হোসেন। নিজের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার শ্বশুর মাওলানা ইউনুসকে বেপরোয়া গতিতে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করেছে এই সিএনজি চালিত অটোরিকশা। সড়কে মানুষের জীবনের যেন কোনো মূল্যই নেই।”
সড়ক নিরাপদ করার দাবি তুলে বারবার আন্দোলন করেও কোনো সুফল মেলেনি বলে জানান নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের স্থানীয় নেতা জিএম সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, “মানববন্ধন আর আন্দোলন যা-ই করি না কেন, রহস্যজনক কারণে সিএনজি চালিত অটোরিকশার বেপরোয়া গতি ও রুট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
