Published on
:
2 min read
কুদ্দুস আফ্রাদ, ঢাকা
মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় দু’জনকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। গণপিটুনিতে সাতক্ষীরা ছাড়াও বৃহস্পতিবার বরিশাল ও মুন্সিগঞ্জে আরও দু’জনকে মারা হয়েছে। এ সব ঘটনায় নিয়মরক্ষার মামলা হলেও পুলিশ ‘আসল’ খুনিদের ধরছে না বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম–অবমাননার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ডাক দিয়ে, লোক জড়ো করে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। এরপরে বৃহস্পতিবার রাতে তালা উপজেলায় মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে ক্ষিতীশ মণ্ডল (৫২) নামে এক ব্যবসায়ীকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর হাত-পা ভেঙে, কোপানোর অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এমনকী চোখ উপড়ে নেওয়ার চেষ্টাও হয়। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাঁকে স্থানীয় তালা হাসপাতালে নিয়ে গেলে শুক্রবার সেখানে মৃত্যু হয় ক্ষিতীশের।
নিহতের খুড়তুতো দাদা পার্থ মণ্ডলের অভিযোগ, জেয়ালা উত্তর খোলা বিলে বিশ্বনাথ ঘোষের ঘেরে মাছ চুরির সন্দেহে রাত তিনটে নাগাদ ক্ষিতীশকে আটক করা হয়। পরে, বিশ্বনাথ ঘোষ, শিমুল ঘোষ, সমর ঘোষ, ইব্রাহিম খাঁ, হাবিবুর গাজী, গফফর শেখ-সহ ১০-১৫ জন জেয়ালা শশ্মানঘাটের পাশে একটি গাছে বেঁধে তাঁকে বেদম মারধর করে। অর্ধমৃত অবস্থায় ক্ষিতীশকে উদ্ধার করে স্থানীয় তালা হাসপাতালে ভর্তি করার পর দুপুর ১২টা নাগাদ তিনি মারা যান। পার্থর অভিযোগ, ‘চার বিঘা মাছের ঘের রয়েছে ক্ষিতীশেরও। চোর তকমা লাগিয়ে তাঁকে পিটিয়ে মারা হলো!’
অন্য দিকে, ধর্ম–অবমাননার তকমা দিয়ে গত মঙ্গলবার দেবহাটার শামীমকে হত্যার ঘটনার মূল পান্ডা ফজলুল হক আমিনী গত কয়েক দিন ধরে দাপটে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি বলে অভিযোগ। শামীমের মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা পরে বৃহস্পতিবার মাঝরাতে মামলা দায়ের হয় পুলিশে। পুলিশ শুক্রবার পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না–পারলেও শামীম সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ। এমনকী, প্রায় প্রতি ঘণ্টায় তিনি খুনের পক্ষে যুক্তিও দিচ্ছেন! নিহত শামীমের দাদা আব্দুল জলিল ১০ জনের নাম করে ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই খুনের পিছনে মদত রয়েছে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের। জড়িত বিএনপির একাংশও। তাই পুলিশ হাত গুটিয়ে।