চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখা থেকে জাল স্বাক্ষরে তৈরি ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার মামলায় মোহাম্মদ শাহ আলম নামে এক ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন ধারায় মোট ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সব ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাঁকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসেন জানান, সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে জাল স্বাক্ষরে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় তিন বছর, ৪৬৭ ধারায় পাঁচ বছর, ৪৬৮ ধারায় তিন বছর এবং ৪৭১ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। সব মিলিয়ে সাজা ১৬ বছর হলেও তা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোহাম্মদ শাহ আলম ও তাঁর ছেলে এস এম পারভেজ আলম তিন সহোদরের স্বাক্ষর জাল করে ২০০৪ সালে চারটি ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করেন। এসব গ্যারান্টিনামায় প্রত্যেকের নামে ২৫ কোটি টাকা করে প্রদর্শন করা হয়।
পরে জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি এসব নথি ব্যবহার করে ২০১২ সালে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখা থেকে পাঁচটি এলটিআর ও একটি সিসি (হাইপো) ঋণ সুবিধার বিপরীতে ২৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৮২ টাকা ঋণ নেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণ নেওয়ার পর মাত্র ৮ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৮ টাকা পরিশোধ করা হয়। ২০১৪ সালের ১১ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার ৭১২ টাকা।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক এইচ এম আখতারুজ্জামান ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
