রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে ‘মনজুর খান প্লাজা’ নামের একটি সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, অত্যন্ত সরু রাস্তা, তীব্র যানজট এবং উৎসুক জনতার ভিড়ের কারণে মাত্র দুই মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে তাদের ২০ মিনিট সময় লেগে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় পরবর্তী সময়ে আরও ইউনিট যুক্ত করতে গিয়েও একই ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়।
প্রাথমিকভাবে আগুন একটি ভবনে লাগলেও তা ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরেকটি ভবনেও।
এর আগে, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। শুরুতে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে, ভবনে প্রচুর ধোঁয়া থাকায় ফায়ার ফাইটারদের কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হয়। এরই মধ্যে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও পরে তা পাশের আরেকটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমানে মোট ১০টি ইউনিট মোতায়েন করা হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকজন ফায়ার ফাইটারকে অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখা যায়। ফায়ার ফাইটারদের সঙ্গে সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে কাজ করছে থানা পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারা এলাকায় এসি মসজিদের পাশে অবস্থিত ‘মনজুর খান প্লাজা’ নামের বহুতল ভবনের মার্কেটটির ষষ্ঠতলার একটি দোকান থেকেই মূলত আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার স্টেশন থেকে দূরত্ব মাত্র ২ কিমি, কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিসকে গুনতে হয় ২০ মিনিট। বিকেল ৫টা ২ মিনিটে মনজুর খান প্লাজার ষষ্ঠতলায় আগুনের সূত্রপাত। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে পুরান ঢাকার যানজট ও সরু রাস্তার পরিস্থিতির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো দ্রুত পৌঁছাতে পারেনি। অর্থাৎ মাত্র দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলোর প্রায় ২০ মিনিট সময় লেগে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের দাবি অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের অন্তত আধা ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধা ঘণ্টার মধ্যেই পানির সংকটে পড়তে হয়। কাছে পানির উৎস খুঁজে বের করতেও বেগ পেতে হয়।
সরু গলি ও উৎসুক জনতার ভিড়ে উদ্ধারকাজ ব্যাহত ঘটনাস্থল থেকে ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও চিত্রে যায়, পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো অত্যন্ত সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে বেশ প্রতিকূলতার সৃষ্টি করে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দীর্ঘ যানজট এবং সাধারণ উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড়। বহু মানুষ রাস্তা আটকে ভিড় করায় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফায়ার ফাইটার, পুরান ঢাকার অত্যন্ত সরু রাস্তায় অগ্নিকাণ্ডেরস্থলে পৌঁছাতে যেমন বেগ পেতে হয়েছে, তেমনি ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়। বিশেষ করে আগুনের ভয়াবহতায় যখন ইউনিট বাড়ানোর প্রয়োজন হলো। এরমধ্যে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় আর পানির স্বল্পতার কারণে আগুনও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
তিনি বলেন, অতীতেও এমনটি ঘটেছে। পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে যে ধরনের বেগ পেতে হয়েছিল, এবারও ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো। ভবনটির দ্বিতীয়, তৃতীয় তলায় দোকান। চার, পাঁচ, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় গোডাউন। কসমেটিক্স, ছাতা, ভ্যানিটি ব্যাগসহ নানা মালামালের গোডাউনে রাখা হতো। কোটি কোটি টাকার মালামাল ভবনটির গোডাউনে মজুত। আগুন লাগার খবরে মার্কেটের ক্রেতা-বিক্রেতাসহ ব্যবসায়ীরা সবাই নেমে যান।
মার্কেটের সবুর নামে এক বিক্রেতা জানান, ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব নাই। পানি দিয়ে নেভানোর মতো পানিও নাই। পাশের মার্কেট থেকে পানি নিতে হচ্ছে। আগুন যেখানে লাগছে সেখানে যাওয়ার মতো অবস্থাও নাই। অন্য ভবনের ওপর থেকে পানি দিতে হচ্ছে। সেখানে গাড়ি ঢুকানোও কঠিন।
জেইউ/জেআই
