কানাডা থেকে আলবার্টার পৃথকীকরণ নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোট গণনা। প্রদেশটি কানাডার অংশ হিসেবেই থাকবে, নাকি পৃথকীকরণের বিষয়ে দ্বিতীয় ও বাধ্যতামূলক গণভোটের পথে এগোবে—এ প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করছেন আলবার্টাবাসী। আগাম ও ডাকযোগে ভোটের মাধ্যমে ১০ লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। গণভোটে অভিবাসন, নাগরিকত্ব, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সাংবিধানিক ক্ষমতাসহ মোট ১০টি বিষয়ে প্রশ্ন রাখা হয়েছে।
ইলেকশনস আলবার্টার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গণভোটের প্রথম নয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে। দশম প্রশ্নে দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। গণভোটের ফল সরকারকে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দিলেও প্রশ্নগুলোর ফলাফল আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়।
প্রথম পাঁচটি প্রশ্নে অভিবাসন, নবাগতদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারসংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরবর্তী চারটি প্রশ্নে গুরুত্ব পেয়েছে আলবার্টার সাংবিধানিক কর্তৃত্ব এবং কানাডার বিচারব্যবস্থায় প্রদেশটির ভূমিকা। সবচেয়ে আলোচিত দশম প্রশ্নে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, আলবার্টা কানাডার অংশ হিসেবে থাকবে, নাকি পৃথকীকরণের বিষয়ে দ্বিতীয় ও বাধ্যতামূলক গণভোটের দিকে এগিয়ে যাবে। এ প্রশ্নের ফল প্রদেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তিন ধাপে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়—অনলাইন, ডাকযোগে এবং সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে। ১৯ অক্টোবর আলবার্টার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র স্থানীয় সময় রাত ৮টায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে কিছু কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সময় বাড়ানো হয়।
নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা ইলেকশনস আলবার্টা জানিয়েছে, শেষ ভোটকেন্দ্র বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হবে না। আগাম ও ডাকযোগে দেওয়া ভোট গণনার কাজ বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গণভোটের দশম প্রশ্নের ফল মঙ্গলবার ভোর ১টা থেকে ৪টার মধ্যে মাউন্টেন টাইমে প্রকাশিত হতে পারে।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্যালগারির গ্রেস প্রেসবিটেরিয়ান চার্চের ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়। ভোট দিয়ে বের হওয়ার সময় তাঁদের ‘আই ভোটেড’ লেখা হলুদ স্টিকার দেওয়া হয়।
কানাডার সঙ্গে আলবার্টার অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে প্রচারণা চালানো ‘ফরএভার কানাডিয়ান’ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক আমির মোরভ গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসাই তাঁদের প্রচারণার প্রধান প্রেরণা। প্রদেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও পটভূমির মানুষকে একত্র করে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে জনমত তুলে ধরতে তাঁরা কাজ করেছেন। সংগঠনটির সমর্থক টমাস লুকাসজুকও আশা প্রকাশ করেন, ভোটের ফল কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে জোরালো জনসমর্থনের প্রতিফলন ঘটাবে।
অন্যদিকে, এডমন্টন সেন্টারের সংসদ সদস্য ও জরুরি ব্যবস্থাপনাবিষয়ক মন্ত্রী এলেনর ওলশেভস্কি আলবার্টার সঙ্গে ফেডারেল সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আলোচনা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ফেডারেল সরকারের নীতি নিয়ে আলবার্টার অনেক বাসিন্দার উদ্বেগ থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি। গণভোটের পরও ফেডারেল সরকার আলবার্টার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বড় প্রকল্প, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
আলবার্টা কানাডার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানিসমৃদ্ধ প্রদেশ। তেল ও গ্যাসশিল্প, কর্মসংস্থান, করনীতি এবং ফেডারেল সরকারের সঙ্গে প্রাদেশিক ক্ষমতার প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে অটোয়া ও আলবার্টার সরকারের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণ হয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রদেশটির পৃথকীকরণের পক্ষে প্রচারণাও আলোচনায় এসেছে।
এখন নজর গণভোটের চূড়ান্ত ফলের দিকে, বিশেষ করে দশম প্রশ্নে পৃথকীকরণের বিষয়ে দ্বিতীয় ও বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব কতটা সমর্থন পায়, সেদিকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলাফল যা-ই হোক, এই গণভোটের মাধ্যমে আলবার্টা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। ভোটের ফল অভিবাসন ও প্রাদেশিক ক্ষমতা নিয়ে সরকারের প্রস্তাবগুলোর প্রতি জনসমর্থন এবং কানাডার সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভোটারদের মনোভাবের ইঙ্গিত দেবে।
এমএস/
