সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে কেশবপুর কলেজপাড়ার একমাত্র চলাচলের রাস্তায় দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগে প্রায় ১৫০ পরিবারের যাতায়াত বন্ধের আশঙ্কায় অন্তত ২০ ফুট রাস্তা উন্মুক্ত রাখার দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছেন এলাকাবাসী, অন্যদিকে কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা কলেজের জায়গায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে চায়।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুর কলেজপাড়ায় যাতায়াতের একমাত্র রাস্তায় দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় কলেজ প্রশাসন। এতে ওই এলাকার প্রায় ১৫০টি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অন্তত ২০ ফুট রাস্তা উন্মুক্ত রাখার দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কলেজপাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, কেশবপুর কলেজপাড়ার বাসিন্দাদের প্রতিদিনের যাতায়াত, কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার একমাত্র ভরসা এই রাস্তাটি। সম্প্রতি কলেজ প্রশাসন সেখানে সীমানা প্রাচীর বা দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ভীতির সৃষ্টি হয়। দেয়ালটি নির্মিত হলে পরিবারগুলো কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকে তাঁরা সবসময় স্বাগত জানান, তবে তা সাধারণ মানুষের চলাচলের মৌলিক অধিকার হরণ করে হওয়া অনুচিত। জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রার স্বার্থে রাস্তাটি উন্মুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এ দিকে জগন্নাথপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাদের মিয়া জানানা, আমাদের কলেজের সীমানা প্রাচীরের জন্য আগ থেকে পিলার ছিল। এখন আমরা কলেজের জায়গায় সিমানা প্রাচীর করতে চাই।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন আবুল মিয়া, আব্দুল হেকিম, আফরোজ আলী, শামছুল হক, লেবু মিয়া, আকবর আলী, দিরু সূত্রধর, হীরা সূত্রধর, শুয়াইবুর রহমান, আব্দুল কাহার, খোকন সরকার, জুনেদ মিয়া, নীরব আলী, রিমন মিয়া, তাহমিদ, জুনেদ, নাছির উদ্দিন কামরান, নাজিম উদ্দিন, মাসুদুর রহমান, প্রণতি দাস, লক্ষ্মী রানী দাস, রওশন আরা, খাসিয়ারা বেগম, আলেসা বেগম, শমতেরা বিবি, সন্ধ্যা রানী দাস ও মিনতি দাস প্রমুখ।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে তদন্তপূর্বক উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
