দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। সরকারি ছুটির পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন পর্যটকরা। শহরের ব্যস্ততা কাটাতে পর্যটকরা সপরিবারে ছুটে আসেন সবুজ চায়ের রাজ্য ও পাহাড়ি পরিবেশে।
পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারে প্রতিবছর বিভিন্ন ছুটিতে দেশি-বিদেশি ও স্থানীয় পর্যটকসহ হাজারো পর্যটক আসেন। এবারও পূজার ছুটিতে এভাবে পর্যটক এসেছেন। দর্শনীয় স্থান দেখতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করছেন।
সরেজমিনে বুধবার কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর চা-বাগান লেক, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ ও আর্কাইভ, শমসেরনগর চা-বাগান ক্যামেলিয়া লেক, গলফ মাঠ ও খাসিয়াপল্লি ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক এসেছেন এসব এলাকা ঘুরে দেখতে।
জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রর অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, কমলগঞ্জে মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স, মাধবকু- জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, চা-কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি, ডিনস্টন সিমেট্রি, হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরী পল্লি, হাকালুকি হাওড়, শ্রীমঙ্গল বাইক্কা বিল, মনু ব্যারেজ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বধ্যভূমি, উঁচু নিচু সবুজ চা-বাগান, চা কন্যা ভাস্কর্য, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, ব্যক্তি মালিকানা সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা। এসব কেন্দ্রে পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহার পর দীর্ঘ ৪ মাস পর আবার পর্যটকের আগম ঘটেছে পূজার ছুটিতে। জেলায় অন্তত ১০ হাজার পরিবার পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন ব্যবসা ভালো না হলে এসব পরিবারের মানুষ কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয়।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আশা ফয়সাল আহমেদ বলেন, এক বছর পর আবার মৌলভীবাজারে এসেছি। এখানের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যি অসাধারণ।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ওসি কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটক কেন্দ্রে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সবসময় কাজ করছি।