সকালে জাতীয় দলের ব্যাটারদের নিয়ে কাজ করেছেন, সন্ধ্যায় জানতে পেরেছেন আর থাকছেন না জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের পদে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের মাত্র চার দিন আগে মোহাম্মদ আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড জানিয়েছে, আশরাফুলকে নতুন কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে। এদিকে, বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আশরাফুল বলেছেন তার প্রতি ‘অবিচার করা হয়নি’। চুক্তিতেই এমন কথা লিখা ছিল বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আশরাফুল জানান, শনিবার সন্ধ্যায় তাঁকে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ না করলেও বিসিবির সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ এখনো তিন মাসের বেশি। এই সময়ে বোর্ড যেখানে তাকে কাজে লাগাতে চায় তিনি প্রস্তুত বলেছেন আশরাফুল।
‘কালকেই জানানো হয়েছে, মাগরিবের পরে জানতে পেরেছি যে আসলে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এবং বাকি সময় যে তিন মাস সময় আছে সেটা যখন অ্যাসাইনমেন্ট বা কোনো কাজ থাকবে তখন জানানো হবে।’
আশরাফুলের জায়গায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন বিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। স্থায়ী ব্যাটিং কোচ নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে বোর্ড। জানা যাচ্ছে, ব্যাটিং কোচ হিসেবে হাইপ্রোফাইল বিদেশি কোচ খুঁজছে বিসিবি। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা ব্যাটার হাশিম আমলা এবং পাকিস্তানের সাবেক তারকা ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফদের নাম শোনা যাচ্ছে আলোচনায়।
আশরাফুলকে হঠাৎ ছাটাইয়ে জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ব্যাটিং ব্যর্থতা বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বলা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে কোনো ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দল গুটিয়ে যায় যথাক্রমে ১৭২ ও ১৬০ রানে। এর আগে জিম্বাবুয়ে সফরেও ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ।
তবে টেস্টে দলের পারফরম্যান্সকে আলাদা করে দেখছেন আশরাফুল। তাঁর দাবি, সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ব্যাটাররা ভালো করেছেন, আর সেই ধারাবাহিকতার প্রতিফলনও রয়েছে ফলাফলে।
‘ওয়ানডেতে ভালো করতে পারিনি, ত্রিদেশীয়তে, কিন্তু আমাদের টেস্ট দল কিন্তু খুবই গোছানো। আমি যখন ২০২৫ নভেম্বরে প্রথম ঢুকেছিলাম আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে দুইটা টেস্ট ম্যাচে, তখনই বলেছিলাম যে আমাদের টেস্ট দল সবচেয়ে গোছানো, অভিজ্ঞ। রেজাল্টও যদি আপনি দেখেন যে, আমি ঢোকার পরে আলহামদুলিল্লাহ আটটা টেস্ট ম্যাচে পাঁচটা জিতেছি, একটাতে ড্র। এবং ব্যাটসম্যানদের সবারই অ্যাভারেজ ৫০ টু ৫২ এবং ৪৫-৪৫ এরকম। তো ব্যাটসম্যানরা সবাই ভালো করছেন, প্রায় আট টেস্ট ম্যাচে ৯টা সেঞ্চুরি, ২২টা বা ২৩টা ফিফটি করেছে, ১০০ রানের পার্টনারশিপ আমাদের এভরি টেস্ট ম্যাচেই হয়েছে।’
তাহলে টেস্টে ভালো ফলের পরও কেন দায়িত্ব হারাতে হলো? এই প্রশ্নের উত্তর আশরাফুলের কাছেও নেই। বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা না করলেও তাঁর কথায় ফুটে উঠেছে পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার সুর।
আশরাফুল বলেন, ‘এটা ক্রিকেট বোর্ড ভালো বলতে পারবে, কেন নাই। কিন্তু যেহেতু পেশাদার কোচ আমি, ক্যারিয়ারের মাত্র শুরু। আমি ভাগ্যবান যে আসলে শুরুতেই এত বড় একটা কাজ করতে পেরেছি বাংলাদেশ দলের হয়ে। সামনে হয়তোবা আরও অনেক কিছু শিখবো ইনশাআল্লাহ, তারপর আরও ভালো ভালো কাজ করব।’
