আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান ওই প্রণালিতে সমুদ্র মাইন বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইতিমধ্যে সীমিত আকারে কিছু মাইন স্থাপনও করা হয়েছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনে অল্পসংখ্যক মাইন বসানো হয়েছে। তবে তা এখনো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। আরেকটি সূত্রের মতে, ইরানের হাতে এখনো বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র যুদ্ধজাহাজ ও মাইন স্থাপনকারী নৌযান অক্ষত রয়েছে। প্রয়োজনে তারা অল্প সময়ের মধ্যেই শত শত মাইন ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।
বর্তমানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দেশটির নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা তদারকি করছে। তাদের হাতে মাইন বসানোর বিশেষ নৌযান, বিস্ফোরক বোঝাই দ্রুতগতির নৌকা এবং উপকূলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানো হয়ে থাকে, তাহলে তা অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া উচিত। অন্যথায় ইরানকে “নজিরবিহীন পরিণতি”র মুখোমুখি হতে হবে। তবে তেহরান যদি মাইন সরিয়ে নেয়, তাহলে সেটিকে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করবেন বলেও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপনকারী নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, অত্যন্ত নির্ভুলভাবে এসব নৌযান ধ্বংস করা হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিকে কোনোভাবেই “সন্ত্রাসীদের” হাতে জিম্মি হতে দেওয়া হবে না।
পরে সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে দাবি করে, প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তারা ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজসহ কয়েকটি নৌযান ধ্বংস করেছে।
এর আগে ইরানের আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচল করলে তা হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক বিশ্লেষক বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ডেথ ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকা বলে উল্লেখ করছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দেয়নি। তবে পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার জন্য তাদের কাছে বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে।
