একসময় দেশের বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল আইডিবিআই। ক্রমে বৈভব হারাতে হারাতে সেটি এবার চলে গেল বিদেশি সংস্থার মালিকানায়। কানাডার বিনিয়োগকারী সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ডিংস লিমিটেডের কাছে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের সিংহভাগ শেয়ার বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের পুনর্গঠন ও বিলগ্নীকরণ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ ইক্যুয়িটি বিক্রিতে কোনও বাধা রইল না। কানাডার সংস্থাটি আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০ শতাংশের মালিকানার জন্য ৫২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা দেবে। এটিকেই দেশের আর্থিক ক্ষেত্রের বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগ বলেছে কেন্দ্র। এই প্রস্তাবে মোদি সরকার ছাড়পত্র দেওয়ায় দেশের ব্যাঙ্কিং সেক্টরে বিদেশি বিনিয়োগের রাস্তা খুলে গেল।
আইডিবিআই ব্যাঙ্ক একসময় কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে কেন্দ্রের কিছু শেয়ার বিক্রি করা হয় রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা এলআইসির হাতে। এই মুহূর্তে এলআইসির হাতে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৪৯.২৪ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ৪৫.৪৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কেন্দ্র ও লাইফ ইনসিওরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া মিলিয়ে মোট ৯৪.৭১ শতাংশ শেয়ার ছিল। এর মধ্যে ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার চলে যাবে কানাডার সংস্থাটির হাতে। এর ফলে এলআইসির হাতে আর প্রায় ১৯ শতাংশ ও কেন্দ্রের হাতে আর প্রায় ১৫ শতাংশ শেয়ার পড়ে থাকবে। যে সংস্থার কাছে ব্যাঙ্কের মালিকানা যাচ্ছে সেটিও তৈরি করেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রেম ওয়াতসা।
তবে এই শেয়ার বিক্রির ফলে গ্রাহকদের লেনদেনের কোনও সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষিত রাখার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, এটা বিলগ্নিকরণ নয়। একটা পুনর্গঠন। আগামী ৩ বছর কানাডার ওই সংস্থা ব্যাঙ্কের নামও বদল করতে পারবে না। এই চুক্তির আগে দীর্ঘ সময় ধরে যাবতীয় নথিপত্র ও আর্থিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য ব্যাঙ্কের ভবিষ্যৎ উন্নতির কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। আগামী দিনে শেয়ারের দাম বাড়লে সেটার সুফল সরকারও পাবে। কারণ সরকারের হাতেও ৩৪ শতাংশ শেয়ার থাকছে।
