বহু বছর ধরে শীর্ষস্থান দখল করে থাকা পূর্ব বর্ধমানের আলমগঞ্জ বারোয়ারি পুজো এবার পা দিল ৭৬তম বর্ষে। বিগ বাজেট, অভিনব থিম আর তাক লাগানো আয়োজনে কলকাতার পুজোর সঙ্গেও অনায়াসে পাল্লা দেয় এই পুজো। প্রতিবারের মতো এবারও মহোৎসবের সূচনার লগ্ন থেকেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
গত ৭৬ বছরের ঐতিহ্য বজায় রেখে এবারও আলমগঞ্জ বারোয়ারির উদ্বোধন হল মহাসমারোহে। দেবীপক্ষ সূচনার এই শুভলগ্নে মণ্ডপ উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিমন্ত্রী তথা বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়িকা শ্রীমতী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। মণ্ডপ প্রাঙ্গণে বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘ভদ্রেশ্বর গ্রুপ’ তথা ‘লালবাবা রাইসে’র কর্ণধার সনৎ নন্দীর উপস্থিতি। উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মঞ্চ আলো করেছিলেন তিনি।
শাস্ত্রীয় বিধান মতে, দেবীর আবাহন মানেই অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় শক্তির শুভারম্ভ। সেই ভাবনার সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে উদ্বোধনী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজসেবী শ্রী আশীষ পাল। আধ্যাত্মিক আবহকে আরও গভীর করে তুলতে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান রামকৃষ্ণ মিশনের সম্মানীয় মহারাজ শ্রী শ্রেষ্ঠানন্দ মহারাজ। মন্ত্রোচ্চারণ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে মণ্ডপের দ্বার উন্মুক্ত হতেই ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে।
পুরস্কারের মুকুট আর থিমের চমক ধরে রাখতে এবারও এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ আলমগঞ্জ বারোয়ারি। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতবারের মতো এবারও দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে বিশেষ চমক। আলো, শিল্পকলা এবং ঐতিহ্যের ত্রিবেণী সঙ্গমে সেজে উঠেছে এই মণ্ডপ। সবমিলিয়ে, পুজোর দিনগুলোতে বর্ধমানের জনস্রোত যে আলমগঞ্জেই আছড়ে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
