ফ্রান্সে চলমান সহিংস অস্থিরতার জন্য প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং তার সরকারের নীতিকে দায়ী করেছেন দেশটির বিরোধী নেতারা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার উচ্চব্যয় এবং পাবলিক সার্ভিসের মান অবনতির প্রতিবাদে প্যারিসসহ অন্যান্য শহরে শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এই বিক্ষোভ খুব দ্রুত দাঙ্গা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটে রূপ নেয়। এ ঘটনায় হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শত শত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন
২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের জরিপে এগিয়ে থাকা ডানপন্থি নেত্রী মারিন ল্য পেন ম্যাক্রোঁকে বিশ্বাসযোগ্যতা বা কর্তৃত্বহীন এবং বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এই প্রশাসনকে নিঃশেষ হয়ে আসা একটি সরকার বলে মন্তব্য করেন।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা আস্থা ও কর্তৃপক্ষের এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যা আমাদের গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলছে। এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। আমাদের দেশ আজ সহিংসতা ও সরকারের ক্ষমতাহীনতার মাঝে পিষ্ট হয়ে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছে।’
উল্লেখযোগ্য যে, গত জুলাই মাসে প্যারিসের একটি আপিল আদালত ইইউ তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে ল্য পেনের দণ্ড বজায় রাখলেও তার সাজা কিছুটা সংশোধন করে। এর ফলে ডানপন্থি 'ন্যাশনাল র্যালি' দলের এই প্রবীণ রাজনীতিকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। যদিও ল্য পেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন যে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ন্যাশনাল র্যালির সভাপতি জর্ডান বারদেলা বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখানো শিথিলতা, ক্ষমতার অবক্ষয় এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর নৈতিক ও বস্তুগত দুর্বলতার মূল্য দিচ্ছি। আমি আশা করি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন এবং পদত্যাগ করবেন।’
অন্যদিকে, বামপন্থি দল 'লা ফ্রঁস আঁসমিজ'-এর নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশঁ ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যমকে বলেন, ‘গত দশ বছরের ভয়াবহ শাসনের ফসল হলো এই বিক্ষোভ, যে সময়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্র ও সরকারি পরিষেবাগুলোর স্বাভাবিক কাজকর্ম ধ্বংস করে দিয়েছেন।’
তিনি বিক্ষোভ দমনে অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ত নুনেজ এবং পুলিশ প্রধানদের সম্পূর্ণ অক্ষমতার অভিযোগ তোলেন।
পাশাপাশি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অস্ত্রের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এসব অস্ত্রের কারণে বহু মানুষ পঙ্গু হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, এলএফআই পূর্বেও সহিংসতা উসকে দেওয়ার সরকারি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।’
রবিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ম্যাক্রোঁ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী এবং দাঙ্গাবাজদের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ‘জনগণের যৌক্তিক দাবিগুলো অবশ্যই শোনা হবে, তবে যারা সহিংসতার জন্য দায়ী তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের শিথিলতা দেখাব না। কথা শোনা বা আলোচনার অর্থ দুর্বলতা প্রকাশ করা কিংবা ছাড় দেওয়া নয়।’
শিক্ষকদের সংকট ও পড়াশোনার নিম্ন পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধান করার প্রতিশ্রুতিও দেন ম্যাক্রোঁ।
তিনি বলেন, ‘কোনো পূর্বসংস্কার বা সমস্যাকে হালকাভাবে না দেখে তাদের দাবিগুলো শুনতে হবে।’
অক্টোবরের জনমত জরিপ অনুযায়ী, ম্যাক্রোঁর জনপ্রিয়তার হার কমে মাত্র ১৫ থেকে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ২০২৭ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের প্রথম ধাপের জরিপে ল্য পেন প্রায় ৩২ শতাংশ থেকে ৩৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে সবার শীর্ষে রয়েছেন। সূত্র: আরটি
তামান্না রুপা/
