Published on
:
2 min read
এই সময়, নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘সার’ নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির কথা আগেই সামনে এসেছে। এ বার জানা গেল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত চিঠি দুই নির্বাচন কমিশনার লিখেছিলেন ক্যাবিনেট সচিবকে। ‘ইন্ডিয়া টুডে’র দাবি, তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) করা তাদের প্রশ্নের উত্তরে জানা গিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এড়িয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লিখেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী৷ সূত্রের দাবি, আরটিআই–তে করা প্রশ্নের উত্তরে জানানো হয়েছে, দেশের ভোট নিয়ামক সংস্থার অন্দরে কাজের বণ্টন প্রক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ–সহ চিঠি ক্যাবিনেট সচিবকে লিখেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার৷
চিফ ইলেকশন কমিশনারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপসারণের প্রস্তাব সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বৃহস্পতিবার বলেন, ‘যদি নতুন কোনও নোটিস পাওয়া যায়, তা হলে আমরা নিয়ম ও পদ্ধতি অনুযায়ী সেটা বিবেচনা করে দেখব।’
সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে দিল্লিতে চলা আন্দোলনে এখন, উৎসবের মরশুমে কিছুটা বিরতি। আর তখনই নির্বাচন কমিশনের অন্দরে সংঘাত নিয়ে এই নতুন তথ্য সামনে এলো। ‘ইন্ডিয়া টুডে’–র বক্তব্য, আরটিআই-তে করা তাদের প্রশ্নের উত্তরে জানা গিয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ক্যাবিনেট সচিবালয়ে জমা পড়েছিল। ক্যাবিনেট সচিবালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, ৩০ জুলাই ওই চিঠিগুলির এন্ট্রি করা হয়। সুখবীর সিং সান্ধুর চিঠির ডায়েরি নম্বর ছিল সিএস/৩০০/২০২৬ এবং বিবেক যোশীর চিঠির ডায়েরি নম্বর ছিল সিএস/৭২৮৯/২০২৬। চিঠি জমা পড়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তার জবাব দেওয়া হয়েছিল। ক্যাবিনেট সচিব ৫ অগস্ট চিঠির উত্তর দেন দুই নির্বাচন কমিশনারকে। চিঠির সম্পূর্ণ কপি পাঠানো হয় পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগে। ওই গোটা ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নথি ও ফাইল মিলিয়ে মোট ১৪ পাতার একটি রিপোর্ট তৈরি করা হয়। তবে কোন চিঠিতে সবিস্তার কী কী তথ্য রয়েছে, সেই বিষয়ে বিশদে কিছু জানাতে অস্বীকার করা হয়েছে আরটিআই–এর উত্তরে৷
এর আগে এমন কোনও চিঠির কথা জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানায়নি৷ সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’–এ প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছিল, ‘সার’ নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির কথা। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে কর্ণপাত না–করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই সংবাদের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল, মতভেদ স্বাভাবিক— এটা গণতন্ত্রেরই অংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠির বিষয়টি জ্ঞানেশ কুমার নিয়ে গোটা বিতর্কে নতুন মাত্রা দিতে পারে।