মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন(চট্টগ্রাম)
দুর্নীতি দমন কমিশনের সফল ফাঁদ অভিযান : সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ঘুসের টাকা সহ গ্রেফতার।
সরকারি কর্মকর্তারা ঘুষ নিলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশে এই ধরনের অপরাধের বিচার বিভিন্ন আইনের আওতায় হয়ে থাকে। প্রধানত, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই ধরনের মামলার তদন্ত ও বিচার করে থাকে।
দুর্নীতি দমন কমিশন, চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম আজ কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামে সফল ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করেছে।
অভিযোগ ছিল যে, হোমল্যান্ড প্লাস্টিক স্যু ইন্ডাস্ট্রিজ-এর প্রোপাইটর আমির হোসেন জাপান থেকে আমদানি করা BREAK ACRYLIC MIXED PLASTIC WASTE AND SCRAP (মূল্য ৬,৪২৮.১০ মার্কিন ডলার, HS Code: 3915.90.00) ছাড়করণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করলে শুল্কায়ন সেকশন-৭(বি) -এর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রাজীব রায় ও মোঃ ছারওয়ার উদ্দিন ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি করে নির্ধারিত রেটের বাইরে অতিরিক্ত ৩০,০০০/- টাকা ঘুস দাবি করেন এবং টাকা প্রদান না করলে পণ্য ছাড়করণে বিলম্ব ও নিলামে বিক্রির হুমকি দেন।
উক্ত হুমকির প্রেক্ষিতে হোমল্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রির প্রোপাইটার আমির হোসেন রাজস্ব কর্মকর্তাদের এরূপ দুর্নীতিমূলক ঘুস দাবির বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন, চট্টগ্রাম কার্যালয়কে অবহিত করেন। কমিশনের জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধির আলোকে ঘুস দাবিকারি শুল্ক বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তাদের হাতেনাতে গ্রেফতারের উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং এ বিষয়ে কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করে।
সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষের বিচার সাধারণত যে সকল আইনের অধীনে হয়ে থাকে, তা হলো:
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪: এই আইনটি ঘুষ, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো অপরাধ দমনের জন্য বিশেষভাবে প্রণীত হয়েছে। এই আইনের অধীনে দুদক যেকোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের তদন্ত করতে পারে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে।
দণ্ডবিধি, ১৮৬০: দণ্ডবিধির ১৬১ থেকে ১৬৫ ধারায় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ গ্রহণ সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা তার সরকারি কাজের জন্য বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তার কাজ প্রভাবিত করার জন্য ঘুষ গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবেন।
অভিযানকালে দুদকের বিশেষ টিম অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছদ্মবেশে ঘুস লেনদেন পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রাজীব রায় এবং তার সঙ্গী মাইনুদ্দীনকে ঘুষের টাকা ৩০,০০০/- সহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযান শেষে আলামতের জব্দ তালিকা প্রণয়ন, স্বাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণসহ সকল আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে মামলা রুজুপূর্বক আটককৃতদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকালে উক্ত অপরাধের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের আইনামলে আনা হবে বলে জানিয়েছেন।
