নামাজ মুমিনের চোখের শীতলতা, ইসলামের প্রধান স্তম্ভ ও জান্নাতের চাবি। নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতের চাবি হচ্ছে নামাজ।’ -জামে তিরমিজি: ৪
তাই যে বিষয় নামাজের বরকত বিনষ্ট করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব। শয়তান মানুষকে নামাজের উপকার থেকে বঞ্চিত করতে চায়, আর তার প্রধান হাতিয়ার হলো- ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহ সৃষ্টি।
শয়তানের এই চেষ্টা শুরু হয় অজুর সময় থেকে। অজুর সময় সে মনে সন্দেহ জাগায় যে বায়ু নির্গত হয়েছে কিংবা পেশাবের ফোঁটা পড়েছে। অনেকের মাঝে এই ওয়াসওয়াসার (সন্দেহ) মাত্রা অনেক বেশি। তাদের উচিত, এ বিষয়টিকে অতিরিক্ত আমলে না নেওয়া। কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, ‘আব্বাদ ইবনে তামিম (রহ.)-এর চাচা হতে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হলো যে তার মনে হয়েছিল যেন নামাজের মধ্যে কিছু হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন, সে যেন ফিরে না যায়, যতক্ষণ না শব্দ শোনে বা গন্ধ পায়।’ -সহিহ বোখারি: ১৩৭
এছাড়া অনেক সময় শয়তান নামাজির অন্তরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সে রুকু করেছে কি না, সিজদা কি একটা করেছে নাকি দু’টি করেছে- এ রকম দ্বিধায় পড়ে যায়। নবী কারিম (সা.) তার সাহাবিদের এই সমস্যার সমাধান দিয়েছেন। হজরত উসমান ইবনে আবুল আস (রা.) নবী কারিম (সা.)-এর কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করলে নবী কারিম (সা.) জানান যে, এটি ‘খিনযাব’ নামের শয়তান। তার উপস্থিতি অনুভব করলে তখন আউজুবিল্লাহ পড়ে বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলবে। -সহিহ মুসলিম: ৫৬৩১
নামাজের রাকাতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করা শয়তানের একটি কৌশল। এর প্রতিকার সম্পর্কে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নামাজের মধ্যে তোমাদের কারো যদি এরূপ সন্দেহ হয় যে তিন রাকাত আদায় করা হলো, না চার রাকাত আদায় করা হলো, তবে সে যে কয় রাকাত আদায় করেছে বলে নিশ্চিত হবে (তিন রাকাত), সে কয় রাকাতকে ভিত্তি ধরে অবশিষ্ট করণীয় করবে। এরপর সালাম ফেরানোর পূর্বে দু’টি সিজদা করবে। এখন সে যদি পাঁচ রাকাত আদায় করে থাকে, তাহলে এ দু’টি সিজদা দ্বারা তার নামাজের জোড়া পূর্ণ হয়ে যাবে। আর যদি তার নামাজ চার রাকাত হয়ে থাকে, তাহলে (এই) সিজদা দু’টি শয়তানের মুখে মাটি নিক্ষেপের শামিল হবে। -সহিহ মুসলিম: ১১৫৯
তাড়াহুড়া করে নামাজ পড়াও শয়তানের ফাঁদ। নবী কারিম (সা.) এমন নামাজকে মোনাফিকের নামাজ বলেছেন, যেখানে মানুষ সূর্যের দিকে তাকিয়ে সময় কাটায়, তারপর দ্রুত কয়েকটি ঠোকর মেরে নামাজ শেষ করে। -সহিহ মুসলিম: ৬২২
এই হাদিসটি মূলত ইচ্ছাকৃত আসরের শেষ ওয়াক্তে তাড়াহুড়া করে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে। নামাজ যে তাড়াহুড়া করে পড়া উচিত নয়, সেটাও প্রমাণ হয়ে যায়। নামাজে স্থিরতা বজায় রাখার ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘নিশ্চয় মুমিনরা সফল, যারা তাদের নামাজে বিনয়ী।’ -সূরা মুমিনুন: ১-২
নামাজের সময় প্রয়োজন ছাড়া এদিক-ওদিক তাকানোর কাজকে নবী কারিম (সা.) শয়তানের ছিনতাই বলেছেন। যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার নামাজের কিছু অংশ ছিনিয়ে নেয়। -সহিহ বোখারি: ৭৫১
অন্যদিকে নিজের ওপর অতিরিক্ত কঠোরতা আরোপ করে বারবার একই হরফ পড়া বা অহেতুক সংশয়ে ভোগাও শয়তানের কৌশল। এতে মানুষ ইবাদতের আনন্দ হারায়।
সুতরাং প্রতিটি মুমিনের উচিত, শয়তানের কুমন্ত্রণা ও সন্দেহে সাড়া না দিয়ে আল্লাহর জিকিরে মনোযোগ দেওয়া উচিত। মহান আল্লাহর কাছে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাওয়া। সন্দেহের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে মনে হলে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কেননা বর্তমানে বহু মানুষ মানসিক রোগে ভোগে, যা তারা জানেও না।
মহান আল্লাহ সবাইকে একনিষ্ঠভাবে ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
