বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির (বিএফএসএমএস) উদ্যোগে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘২১তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা ২০২৬’। দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের বিকাশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত হতে যাওয়া এই প্রদর্শনী দেশের ফার্নিচার খাতের সবচেয়ে বড় আয়োজন হিসেবে পরিচিত।
আগামী ২৭ থেকে ৩১ অক্টোবর (মঙ্গলবার থেকে শনিবার) প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় প্রবেশের জন্য কোনো টিকিটের প্রয়োজন হবে না।
এবারের মেলা আইসিসিবির হল-২ (পুষ্পগুচ্ছ), হল-৩ (রাজদর্শন) ও হল-৪ (নবরাত্রি)-জুড়ে অনুষ্ঠিত হবে। মেলা উপলক্ষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন আয়োজকরা। এতে জানানো হয়, ৪৪টি শীর্ষস্থানীয় দেশীয় ফার্নিচার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মোট ৩২৩টি স্টলে তাদের সর্বশেষ নকশা ও প্রযুক্তি তুলে ধরবে।
প্রদর্শনীতে হাতিল, আখতার, ব্রাদার্স, নাদিয়া, পারটেক্স, নাভানা, রিগাল, লেগাসি, আয়ত, ওমেগা, জেএমজি ও অ্যাথেনাসসহ দেশের নামিদামি ব্র্যান্ডগুলোর সর্বাধুনিক ফার্নিচার প্রদর্শিত ও বিক্রি হবে। মেলা উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেতাদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ মূল্যছাড়ের সুযোগ দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বিএফএসএমএসের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ আব্দুল আউয়াল বলেন, “এটি সম্পূর্ণ দেশীয় ভোক্তাকেন্দ্রিক আয়োজন। এখানে কেবল দেশে তৈরি উচ্চমানের ফার্নিচারই প্রদর্শিত হবে, আমদানিকৃত কোনো পণ্য থাকবে না। নতুন উদ্ভাবন ও দৃষ্টিনন্দন আধুনিক নকশা ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার জন্য এটি দেশের নির্মাতাদের সেরা প্ল্যাটফর্ম।”
আগামী ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আইসিসিবির হল-৪-এ আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এবং বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. কে এম আকতারুজ্জামান। বিএফএসএমএসের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখবেন।
মেলা প্রাঙ্গণে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছে। মেলার উদ্বোধনী দিনে দুটি বিভাগে (প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি) অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সেরা ২০ জন শিশুকে মোট প্রায় দুই লাখ টাকার সমমানের পুরস্কার দেওয়া হবে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার জন্য ওই দিন দুপুর ২টা থেকে নিবন্ধন শুরু হবে এবং প্রতিযোগিতা বেলা ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে।
