ফ্রান্সের একাধিক শহরে রাত্রিকালীন কার্ফু জারি
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে চলমান তীব্র ও রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের জেরে রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির একাধিক শহরে রাত্রিকালীন কার্ফু ঘোষণা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন নজিরবিহীন সহিংসতা দেখেনি ফ্রান্স।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু’র কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সোমবার এবং মঙ্গলবার লিলিসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি শহরে রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই আংশিক কার্ফু বলবৎ থাকবে। এছাড়া সোমবার সন্ধ্যা থেকে প্যারিসেও আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিক্ষোভের কারণে বিশ্বখ্যাত ল্যুভ মিউজিয়ামের প্রবেশপথ আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা, যার ফলে জাদুঘরটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেছেন, জনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এমনকি প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা জারি করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
আরও পড়ুন
গত শনিবার ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তবে শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালায়, টাউন হল ও সরকারি ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে, এবং দোকানপাট লুটপাটের পাশাপাশি গাড়ি ও স্কুটারে আগুন দেয়।
সহিংসতার এই ঘটনায় দেশজুড়ে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়েছেন। বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে দুষ্কৃতকারীদের হামলায় অন্তত ৩ হাজার দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ মিলিয়ন ইউরো।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুয়েজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এই ‘বর্বর ও অনিয়ন্ত্রিত’ সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তায় কিছু ঘাটতি ছিল বলে স্বীকার করেছেন।
ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে ইতালি, বেলজিয়াম, স্পেন এবং পর্তুগালেও। মিলান ও ব্রাসেলসে ছোটোখাটো সংঘর্ষ এবং জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/
আরও পড়ুন
বিসিবিতে পুরোনো ভূত!
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সুজন মাহমুদের নাম মনে আছে? কোনো তারকা ক্রিকেটার না হয়েও তিনি তারকা খ্যাতি পেয়েছিলেন! তার সেই তারকা খ্যাতি হওয়াটা ছিল অন্য রকম। ২০১৭ সালে এপ্রিল মাসে দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে এক্সিওম ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে চরম পক্ষপাতিত্বমূলক আম্পায়ারিংয়ে প্রতিবাদ স্বরূপ লালমাটিয়া ক্লাবের হয়ে সুজন মাহমুদ মাত্র ৪ বলে ৯২ রান দিয়েছিলেন। যেখানে ছিল ৬৫টি ওয়াইড বল, ১৫টি নো বল। বৈধ বল ছিল ৩টি। সেখান থেকে রান এসেছিল ৩ বাউন্ডারিতে ১২। এক্সিওম ক্রিকেটার্সের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯২ রানের। এই ঘটনায় সর্বত্র সাড়া পড়ে যায়। টনক নড়ে বিসিবির। কিন্তু তারা প্রকৃত ঘটনায় না গিয়ে সুজন মাহমুদকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি লালমাটিয়া ক্লাবকেও আজীবন নিষিদ্ধ করেছিল। একই বছর ফেয়ার ফাইটার্সের তাসনিম হাসানও একইভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদ হিসেবে ১ বলে ৬৯ রান দিয়ে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। এসব ঘটনায় আম্পায়ারদের লঘু শাস্তি হলেও পক্ষপাতিত্বমূলক আম্পায়ারিং বন্ধ ছিল অনেক দিন। কিংবা হলেও এ রকম প্রকাশ্যে হয়নি। তবে অনেক দিন পর আবার পক্ষপাতিত্বমূলক আম্পায়ারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।
তামিম ইকবালের ক্রিকেট বোর্ডে আবার সেই ভূত চেপে বসেছে! তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেট লিগের নক আউট পর্বের একটি ম্যাচে বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্কের বিপক্ষে মিরপুর ওয়ারিয়ার্স ক্লাব আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যায়। এই ঘটনা তামিম ইকবালের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার পথে আন্তরিক চেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে?
১৭ অক্টোবর পূর্বাচল ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্কের ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৬ রানের জবাব দিতে নেমে মিরপুর ওয়ারিয়ার্স ১১ ওভারে ৭ উইকেটে ৫৩ রান করার পর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যায়। মিরপুর ওয়ারিয়ার্সের ইনিংসের ১১ নম্বর ওভার করছিলেন বসুন্ধরার মানাদি। তার আগের বলে শেখ মাহাদি হাসান একটি ছক্কা মেরেছিলেন। পঞ্চম বলে তিনি এক রান নেওয়ার জন্য ছোটেন। কিন্তু রান নিতে গিয়ে তিনি বোলার দ্ধারা বাধাগ্রস্ত হয়ে ক্রিজে পৌঁছাতে পারেননি। বল ধরে সেই বোলারই তাকে রান আউট হরেন। ব্যাটারকে রান নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মিরপুর ওয়ারিয়ার্সের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আম্পায়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ সময় আম্পায়ার ছিলেন মাহমুদুল হাসান রুবেল। কিন্তু তিনি তাদের আবেদনে সাড়া দেননি। আইসিসির আইনের ৪১.৫ ধারায় উল্লেখ আছে. “ফিল্ডিং দলের কোনো সদস্য (যেমন-বোলার বা অন্য কোনো ফিল্ডার) যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কথা, শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি দিয়ে ব্যাটারের মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করেন কিংবা রান নিতে বাধা দেন, তবে সেটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ‘ডেড বল’ (Dead ball) হিসেবে গণ্য হবে।”
আরও পড়ুন
সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে আম্পায়ার লেগ আম্পায়ারের সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা করেননি বলেও মিরপুর ওয়ারিয়ার্সের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মিরপুর ওয়ারিয়ার্সের ম্যানেজার ও ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক এম এইচ সোহাগ খবরের কাগজকে জানান, আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর তারা চতুর্থ আম্পায়ারের (মো. মারুফ হাসান) কাছে যান। তিনি ম্যাচ রেফারি সৈয়দ মাহবুবউল্লাহর কাছে যেতে বলেন। সেখানে ভিডিওতে বিষয়টি দেখা হবে বলে চতুর্থ রেফারি জানান। এরপর তারা ম্যাচ রেফারির কাছে যান। তাদের বারবার অনুরোধের পর ম্যাচ রেফারি ভিডিওতে দেখতে থাকেন। কিন্তু এর মাঝে ফিল্ড আম্পায়ার মাহমুদুল হাসান রুবেল মিরপুর ওয়ারিয়ার্সের ব্যাটারদের নামতে বলেন। না নামলে টাইমড আউট দেওয়া হবে বলে জানালে দলের ছোট ছোট ক্রিকেটাররা ভয় পেয়ে যান। পরে গাজী আব্দুস সালাম ব্যাটিং করতে চলে যান। একটি বলও খেলে ফেলেন। বিষয়টি এ সময় খেয়াল করা হয়নি। এরপর ম্যাচ রেফারি জানান যে, ব্যাটারকে ইচ্ছাকৃতভাবে রান নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাই এটি আউট হবে না। কিন্তু এর মাঝে একটি বল খেলা হয়ে যাওয়ার কারণে শেখ মেহেদি হাসানকে ফিল্ড আম্পায়ার আর ব্যাটিং করার অনুমতি দেননি। সঠিক বিচার পাওয়া যাবে না–তাই লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
এস এম সোহাগ আরও জানান, আম্পায়ার্স কমিটির সদস্য সচিব আহসানুর রহমান মল্লিক রনি মাঠে গিয়ে প্রভাবিত করেছেন। তিনি বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্কের কর্মকর্তা। তাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছেন। দেখে নেয়ারও হুমকি দিয়েছেন।
আম্পায়ার্স কমিটির সদস্য সচিব আহসানুর রহমান মল্লিক রনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি পূর্বাচলে গিয়েছিলাম হাঁস খেতে। সেখান থেকে মাঠে গিয়েছিলাম সদস্য সচিব হিসেবে–কোনো ক্লাবের প্রতিনিধি হয়ে যাইনি। আমি তাদের সঙ্গে কোনো রকম বাজে ব্যবহার করিনি। কোনো রকম হুমকিও দেইনি। খেলার পরিস্থিতি অনুযায়ী আমি তাদের ক্রিকেটের আইন সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করে খেলার জন্য বলেছি। ম্যাচের যে অবস্থা ছিল, তাতে সেখান থেকে তাদের ম্যাচ জেতা কঠিনই ছিল। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ঠিক না।’
আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, ‘আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সঠিক। প্রয়োজনে ভিডিও দেখতে পারেন। বিসিবির পক্ষ থেকে আম্পায়ারিংয়ের মান উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিমত থাকলে তারা লিখিত অভিযোগ দিতে পারতেন। কিন্তু তারা তো কোনো অভিযোগ দেননি। মিডিয়ায় জানিয়েছেন। ম্যাচ রেফারির যে ভিডিও দেখার কথা বলা হয়েছে, ম্যাচ রেফারি কি ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন? তারপরও তারা বারবার বলায় ম্যাচ রেফারি ভিডিও দেখেছেন। যেখানে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে ম্যাচ রেফারি জানান।’
এ ব্যাপারে ম্যাচ রেফারি সৈয়দ মাহবুবউল্লাহর বক্তব্য জানতে তার দুটি মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দুটি ফোনই বন্ধ ছিল। ঘটনা সম্পর্কে জানতে ফিল্ড আম্পায়ার মাহমুদুল হাসান রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে বিসিবি থেকে নিষেধ করা আছে বলে জানান। যে কারণে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।’
এ ব্যাপারে আম্পায়ার্স কমিটির সদস্য সচিব আহসানুর রহমান মল্লিক রনি বলেন, ‘শুধু এই ঘটনার জন্য নিষেধ করা হয়নি। বিসিবি থেকে এমনিতেই আম্পায়ারদের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করা আছে। আপনি বিশ্বের কোথায়ও দেখবেন না যে আম্পায়াররা মিডিয়ার সঙ্গে ম্যাচ নিয়ে কোনো কথা বলেছে।’
একটি সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ উঠাতে আম্পায়ার মাহমুদুল হাসান রুবেলকে মৌখিকভাবে পরবর্তী সময়ে আম্পায়ারিং করা থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত আম্পায়ার্স বিভাগ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আম্পায়ার্স কমিটির সদস্য সচিব জানান এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আইসিসির আইনের ৪১.৫ ধারায় উল্লেখ আছে, “ফিল্ডিং দলের কোনো সদস্য (যেমন- বোলার বা অন্য কোনো ফিল্ডার) যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কথা, শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি দিয়ে ব্যাটারের মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করেন কিংবা রান নিতে বাধা দেন, তবে সেটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ‘ডেড বল’ (Dead ball) হিসেবে গণ্য হবে।”
মিরপুর ওয়ারিয়ার্স না খেলাতে ম্যাচ রেফারি তার রিপোর্টে ‘রিফিজু টু প্লে’ উল্লেখ করে বসুন্ধরা ক্রিকেটার্সকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
ম্যাচ নিয়ে সিসিডিএমের চেয়ারম্যান মাঈনউদ্দিন চৌধুরী কামরু বলেন, ‘আমরা ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট পেয়েছি। সিদ্ধান্তের জন্য টেকনিক্যাল কমিটির কাছে পাঠাব।’
এবারের তৃতীয় বিভাগ বাছাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগে ৭০টি দল খেলছে। এখন বাকি শুধু সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্কসহ সেমিফাইনালে উঠেছে ইউনাইটেড ক্রিকেট ক্লাব, ইস্কাটন সবুজ সংঘ ও এসিই স্পোর্টস ক্লাব। ফাইনালে উঠা দুটি দল আগামী মৌসুমে তৃতীয় বিভাগ লিগে খেলবে।
আরও পড়ুন
রিজনের বীরত্বে বাংলাদেশের সুপার জয়
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->শেষ ওভারের রোমাঞ্চ, এরপর সুপার ওভারে জয়; আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক লড়াই জিতল বাংলাদেশের যুবারা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে যুব ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে সুপার ওভারে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক যুবারা।
আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৩০৪ রান করে আফগানিস্তান। নোমান সালারজাই করেন সর্বোচ্চ ৭৬ রান। ফারিদুল্লাহ ইহসাসের ৫১ ও তাহির সারওয়ারির ৪৩ রানের পাশাপাশি আমির হামজার ১১ বলে ২১ রানে বড় সংগ্রহ পায় তারা। বাংলাদেশের রুবাই ইসলাম রিজন ৭২ রান দিয়ে নেন চার উইকেট।
আরও পড়ুন
জবাবে ৮ উইকেটে ৩০৪ রান করে বাংলাদেশও। আবদুল্লাহ আল মুহি করেন ৫০, আলামিন হোসেন রনি ৫৬ বলে ৭১ এবং আহসান আল মুমিন ৫৬ রান। শেষদিকে নিয়মিত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও রিজনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। ১৯ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ ওভারে ১৪ রান তুলে ম্যাচ টাই করে বাংলাদেশ।
এরপর সুপার ওভারে এক উইকেটে ১০ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে রিজনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩ রান করতে পারে আফগানিস্তান। তাতেই রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
পলাশ/নাঈম
আরও পড়ুন
ভারতের কাছে বাংলাদেশের বড় হার
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ভারতের শারীরিক শক্তি, গতি আর অভিজ্ঞতার কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশের মেয়েরা। বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে স্বাগতিকদের হার ৪৭-১৩ গোলে। তবে ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়নি বাংলাদেশের। মালদ্বীপকে হারাতে পারলেই ভারতের সঙ্গী হবে ফাইনালে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) পল্টনের শহিদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই ২৪-৮ গোলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। একাই ১৩ গোল করে ম্যাচসেরা হন ভারতের ভাওয়ানা। টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। আগামীকাল নেপালের মুখোমুখি হবে তারা।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া বলেন, দুই দলই পরিশ্রম করছে, তবে প্রস্তুতির মাত্রায় পার্থক্য রয়েছে। ভারত সারা বছর অনুশীলন করলেও বাংলাদেশ অনুশীলনের সুযোগ পায় বছরে মাত্র তিন মাসের মতো। শারীরিক সক্ষমতা ও হ্যান্ডবলের দক্ষতায় এই ব্যবধান মাঠে স্পষ্ট হয়েছে।
আরও পড়ুন
কোচ বলেন, ‘আক্রমণে তাদের একের পর এক খেলোয়াড়কে হারাতে আমাদের সমস্যা হয়েছে। রক্ষণেও তাদের থামানো কঠিন ছিল, কারণ তারা দ্রুতগতির ও শক্তিশালী।’
মালদ্বীপকে নিয়ে সতর্ক আনা বলেন, ‘তারা ভালো দল। ফাইনালে যেতে হলে আমাদের মনোযোগী হতে হবে এবং সেরাটা দিতে হবে।’ ফাইনালে উঠলে ভারতকে চমকে দিতে নতুন কৌশল নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে তার মতে, ভারত এখন বাংলাদেশের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে।
বাংলাদেশের গোলরক্ষক সুমাইয়া বানুও দুই দলের ব্যবধানের কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতার ঘাটতিকে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের টুর্নামেন্ট খুবই কম হয়। ২০১৯ সালে এসএ গেমসের পর ইসলামিক সলিডারিটি গেমস ছাড়া সিনিয়র পর্যায়ে আর কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলা হয়নি। আমাদের অনেক গ্যাপ।’
সুমাইয়ার মতে, ভারত র্যাঙ্কিংয়ে দশম, বাংলাদেশ ৪৮তম। নিয়মিত টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পেলে ভালো করার আশাও দেখছেন তিনি। গোলের ব্যবধান নিয়ে না ভেবে কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছেন বলে জানান এই গোলরক্ষক। আজ মালদ্বীপের বিপক্ষে জয়ই বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের দরজা খুলে দেবে। সুমাইয়ার আশা, দল জিততে পারলে ফাইনালের প্রস্তুতি নেবে নতুন উদ্যমে।
পলাশ/নাঈম
আরও পড়ুন
আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম দেখে সন্তুষ্ট বিসিবির প্রতিনিধি দল
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের আগে ভেন্যুটির মাঠ, উইকেট, ড্রেসিংরুম, চিকিৎসাসেবা ও গণমাধ্যমের সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রতিনিধি দল।
আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। এ আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে সোমবার স্টেডিয়ামের সার্বিক প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত সুবিধা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন বিসিবির ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনে যেসব বিষয়ে সামান্য পরিবর্তন বা উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিসিবির গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ন্যাশনাল ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে। পরিদর্শন শেষে ভেন্যুটির সুযোগ-সুবিধা ও এবিজি স্পোর্টস সিটির সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
আরও পড়ুন
সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভেন্যুতে বিসিবির প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম।
এ উদ্যোগের জন্য এবিজি স্পোর্টস সিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা অসাধারণ একটি ভেন্যু। আমরা অনেক দিন ধরেই খেলাধুলার আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। তবে এই প্রথম বিসিবি এ ধরনের একটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভেন্যুতে আয়োজন করছে।’
স্টেডিয়ামের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এখানকার সুযোগ-সুবিধা অসাধারণ। সবাই সহযোগিতাপরায়ণ ও সহায়তাপ্রবণ। আমরা উইকেট, আউটফিল্ড, ড্রেসিংরুম, চিকিৎসা ও লজিস্টিক সুবিধা, সাংবাদিকদের বসার জায়গা এবং সংবাদ কভারেজের ব্যবস্থা দেখেছি। বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেসব জায়গায় সামান্য পরিবর্তন বা উন্নয়ন প্রয়োজন, সেগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে।’
আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক দলের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ক্রিকেট পরিচালনার সম্ভাবনা যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। এবিজি স্পোর্টস সিটিতে আরও একটি ক্রিকেট মাঠ নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি সেখানে রয়েছে অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে ক্রিকেট আয়োজনের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, ‘দুই দিনের এই প্রস্তুতি ম্যাচ আমাদের জন্য একটি টেস্ট কেস। বসুন্ধরায় আরও একটি মাঠ তৈরি হচ্ছে। তাদের ভালো অনুশীলন সুবিধাও রয়েছে।’
পরিদর্শনকালে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান, এবিজির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার লেফটেন্যান্ট কর্নেল শোয়েব শফিকসহ প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনকে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও এবিজি স্পোর্টস সিটির জন্য বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন পরিচালক মো. ইমরুল হাসান।
তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দুই দিনের একটি ম্যাচ হবে। এবিজি স্পোর্টস সিটি ও আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য এটি অবশ্যই গৌরবের বিষয়।’
বিসিবির প্রতিনিধি দলকে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেখানোর কথা উল্লেখ করে মো. ইমরুল হাসান বলেন, ‘মাঠ থেকে শুরু করে ড্রেসিংরুম, সাংবাদিকদের কক্ষ, মেডিকেল রুমসহ সবকিছুই আমরা তাদের দেখিয়েছি। বিসিবি এ ধরনের আয়োজন করতে অভ্যস্ত, আর আমরা একেবারেই নতুন। তাই তাদের দিকনির্দেশনা নিয়েই কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। তাদের কথাবার্তা থেকে আমার মনে হয়েছে, তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট।’
এর আগে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি এই মাঠে আয়োজন করা হয় জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচও। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভেন্যুটির কার্যক্রমে যুক্ত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক দলের অংশগ্রহণে ম্যাচ পরিচালনার নতুন অভিজ্ঞতা।
বিসিবির প্রতিনিধি দলের এই পরিদর্শন এবং আসন্ন প্রস্তুতি ম্যাচকে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও আয়োজনের সক্ষমতা প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাঈম/
