Published on
:
2 min read
এই সময়, আসানসোল: কুলটি স্টেশন রোডে ইস্কোর একটি পরিত্যক্ত বাংলো সংস্কার করে সম্প্রতি ঝাঁ-চকচকে ‘নেতাজি সেবাকেন্দ্র’ গড়ে তুলেছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অজয় পোদ্দার। কিন্তু কেন্দ্রটির প্রধান ফটকের উপরে নেতাজির নামাঙ্কিত ফলকে ‘সুভাষচন্দ্র’ বানানের পরিবর্তে বড় হরফে ‘সুভাষ চংদ্র’ লেখা থাকায় শিল্পাঞ্চল জুড়ে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দাবি, অবিলম্বে এই ভুল বানান সংশোধন করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে বিধায়ক অজয় পোদ্দার বলেন, ‘যে শিল্পী লিখেছেন তিনি ভুল করে থাকতে পারেন। আমি দেখে নিতে বলছি।’
কুলটির বিধানসভা এলাকার বাসিন্দাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিতে, তাঁদের সমস্যার সমাধানে তৈরি করা হয়েছে এই সেবাকেন্দ্র। সেবাকেন্দ্রের মূল ফটকের ব্যানারে নেতাজির ছবির পাশাপাশি এক দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর অন্য দিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কুলটির বিধায়কের ছবি রয়েছে। সেই ব্যানারেই লেখা হয়েছে ‘সুভাষ চংদ্র’। এলাকার সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্টদের দাবি, ঐতিহাসিকদের লেখা বই ও প্রখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনায় নেতাজির নামের বানানে ‘সুভাষচন্দ্র’ শব্দবন্ধ লেখা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের দায়িত্বশীল প্রজেক্টে এমন বানান বিকৃতি চরম উদাসীনতার পরিচয়।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রবীণ কবি ও প্রাক্তন শিক্ষক বিকাশ গায়েন বলেন, ‘চরম নিন্দনীয়। সুভাষচন্দ্রের মতো একজন চিরস্মরণীয় রাষ্ট্রনেতার নামে ভুল বানানের প্রকাশ্য উল্লেখ উদ্যোক্তাদের অসতর্কতাই প্রমাণ করে।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘রাস্তার ব্যানার ও পোস্টার দেখে খুদে শিক্ষার্থীরা বানান শেখে, তারা এর থেকে কী শিখবে?’ শিক্ষাবিদ তথা গবেষক অনাথবন্ধু চট্টোপাধ্যায় ব্যাকরণগত যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘ন-এর উচ্চারণ কখনওই অনুস্বার দিয়ে হতে পারে না। ন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাধীন ব্যঞ্জনবর্ণ। অনুস্বার সহযোগী বর্ণ মাত্র। বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে এই ভুল সমর্থনযোগ্য নয়।’
চিকিৎসক অরুণাভ সেনগুপ্ত ও কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান উত্তম মণ্ডলও এটিকে ভাষার প্রতি চরম অবহেলা ও মনীষীর প্রতি অশ্রদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। উত্তম মণ্ডল বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তকের বাইরে শিশুরা যখন এ ভাবে বড় বড় হরফে ভুল বানান দেখে, তখন তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।’
রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর তরজা। সিপিএমের রাজ্য সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘নেতাজির নামের বানান নিয়েই যাঁরা সতর্ক নন, ইতিহাসের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা নিয়ে তো প্রশ্ন উঠবেই।’ মমতাপন্থী তৃণমূলের জেলা নেতা সুব্রত সিনহা তোপ দেগে বলেন, ‘মণীষীর নামের প্রতি এমন উদাসীনতা কার্যত রাষ্ট্রদ্রোহিতারই শামিল।’