যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দরপতন দেখা যায়।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ২ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম আগের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৬ ডলার ৮৪ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৬ ডলারে দাঁড়ায়।
স্বর্ণের বাজারে এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর ফেডের আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের মুদ্রানীতিবিষয়ক বৈঠকের দিকে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) তথ্যের জন্যও অপেক্ষা করছেন তাঁরা। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ফেডের সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ।
গত সেপ্টেম্বরে ফেড নীতিনির্ধারণী সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছিল। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৮৩ শতাংশ বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়তে পারে—এমন সম্ভাবনা দেখছেন ৯৪ শতাংশ বাজার বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারণ, স্বর্ণে বিনিয়োগ করে সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদ প্রদানকারী সম্পদে বিনিয়োগের তুলনায় স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়, যা এই ধাতুর চাহিদা ও দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও স্বর্ণের বাজারকে প্রভাবিত করছে। সোমবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক হামলা চালানোর দাবি করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে মূল্যবান ধাতুর বাজারেও।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৬ ডলার ৬৯ সেন্টে নেমে আসে। অন্যদিকে প্লাটিনামের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৩৯ ডলার ৬৫ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১১২ ডলার ৮ সেন্টে নেমে আসে।
