কর্ম জীবন, ব্যক্তি জীবন এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে প্রায় সব বয়সের মানুষই বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন। একজন মুসলিম হিসেবে মানসিক এই চাপ থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী হতে পারে?
ইসলাম বা ইসলামী বিধান পালনের কথা সামনে আসলে আমরা সাধারণত ভাবি, দান, সদকা করা, সব সময় অন্যকে সাহায্য করা। ইসলাম এসব মানবিক গুণের শিক্ষা দিলেও নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে বলে।
সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) একবার হজরত আয়েশা (রা.)-এর ঘরে প্রবেশ করে দেখেন দুটি মেয়ে গান গাইছে এবং দফ বা ঢোল বাজাচ্ছে। আয়েশা (রা.)-এর পিতা হজরত আবু বকর (রা.) ঘরে ঢুকে মহানবী (সা.)-এর উপস্থিতিতে তাদের এমন আচরণকে বেয়াদবি মনে করে শাসন করতে চাইলে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ওদের ছেড়ে দাও।
আরও পড়ুন
একই হাদিসে দেখা যায়, মহানবী (সা.) আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেন তিনি আবিসিনিয়ার একদল মানুষের ঢাল ও বর্শা নিয়ে খেলা দেখতে চান কি না। আয়েশা (রা.) সম্মতি দিলে দুজনে একসঙ্গে বসে তা উপভোগ করেন, যতক্ষণ না আয়েশা (রা.) নিজে থেকে চলে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই হাদিসের ঘটনাবলী প্রমাণ করে যে মানসিক চাপ দূর করা, খেলাধুলা করা কিংবা সাধারণ জীবন উপভোগ করার মতো বিষয়গুলোও দান-সদকা বা বাবা-মাকে সম্মান করার মতো আমাদের ধর্মের অংশ। এমন আরও অনেক হাদিস আছে যা মুসলিমদের খেলাধুলা ও শারীরিক কসরত করতে উৎসাহিত করে।
কঠিন সময়ে আল্লাহর ওপর ভরসা
এক্ষেত্রে আমাদের প্রথমেই ভাবতে হবে, পৃথিবীর জীবন কখনোই সম্পূর্ণ নির্ঝঞ্ঝাট নয়। বিপদ, আপদ, সুখ-শান্তি, অবসাদ এই সবই আমাদের জীবনের অংশ। তাই সব সময় এই ধারণা রাখতে হবে যে, এই সবকিছু মোকাবিলা করেই পৃথিবীতে আমাদের বসবাস করতে হবে।
অনেক সময় মানুষকে পরিণত করতেই আল্লাহ তায়ালা বিপদ, আপদ দিয়ে থাকেন। কারণ, কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার ফলে অনেকে আরও দ্বিগুণ শক্তিতে ঘুরে দাঁড়ায়।
সময়ে নামাজ আদায় করুন
নামাজ আমাদের ইমানের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তবে আমরা যে পরিবেশে বাস করি, অনেক সময় সেখানে সময়মতো নামাজ পড়া একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোর একটি হতে পারে।
তাই প্রথমে নামাজের সময়গুলোকে গুরুত্ব দিন এবং নামাজকে কেন্দ্র করে অন্যান্য কাজের পরিকল্পনা করুন। মূলত নামাজের সময়কে কেন্দ্র করে দিনপঞ্জি সাজালে ও একে অগ্রাধিকার দিলে আপনার জীবন আরও সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠবে, পাশাপাশি ইসলামের অন্যতম প্রধান দায়িত্বও পূরণ হবে।
এনটি
