ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুটা দুঃস্বপ্নের মতো হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে দল। এই হারে সিরিজের ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে গেছে তাওহীদ হৃদয়দের সামনে। তবে ফাইনালের আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি নির্ভর করতে হবে জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তান ম্যাচের ফলের ওপরও।
বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল ২৭৩ রান। শুরুতে তানজিদ তামিমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে প্রথম ১০ ওভারেই ৬৬ রান তুলে নেয় দল। এতে জয়ের পথ সহজ হয়ে উঠবে বলে আশা জেগেছিল। রান তোলার গতি ছিল নিয়ন্ত্রণে, প্রয়োজনীয় রানরেটও নেমে এসেছিল ওভারে পাঁচের কাছাকাছি।
কিন্তু এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম উইকেটে ৪৭ রানের জুটির পর আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারেনি ব্যাটাররা। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেন নবম উইকেটে ৩২ রান যোগ করেন। দুই বোলারের এই জুটিই হয়ে ওঠে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ব্যর্থতায় লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থেমে যায় দল।
ত্রিদেশীয় সিরিজটি সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে হওয়ায় প্রথম ম্যাচে হার বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। এই ফরম্যাটে প্রতিটি ম্যাচের ফলই ফাইনালে ওঠার হিসাবকে প্রভাবিত করে। তাই শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। তবে সেই জয়ই যথেষ্ট হবে কি না, তা নির্ভর করছে আগের ম্যাচের ফল ও রান ব্যবধানের ওপর।
সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জিতলে বাংলাদেশের জন্য হিসাব সহজ হয়ে আসবে। সে ক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে পারলেই ফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে আফগানিস্তান জিতলে বাংলাদেশের জন্য সমীকরণ আরও জটিল হবে। তখন আফগানদের জয়ের ব্যবধান, রানরেট এবং বাংলাদেশের শেষ ম্যাচের ফল বিবেচনায় নিতে হবে। আফগানিস্তান অল্প ব্যবধানে জিতলেও বাংলাদেশকে নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পেতে হতে পারে। আফগানদের জয়ের ব্যবধান যত বাড়বে, বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় জয়ের ব্যবধানও তত বাড়তে পারে।
তবে এসব হিসাবের চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ম্যাচের পরই। আপাতত বাংলাদেশের নজর সেই ম্যাচের দিকে। জিম্বাবুয়ের জয় হলে ফাইনালে ওঠার পথ তুলনামূলক সহজ হবে শান্তদের। এরপর নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে বাংলাদেশকে।
এমএস/
