নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে ২ লাখ ১২ হাজারের বেশি আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় কাজ করছে ১০৪টি স্ট্রাইকিং টিম। গুজব, উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
আজ শনিবার বিকেলে গাজীপুরের পূর্ব চান্দরা শ্রী শ্রী কালী ও দুর্গা মন্দির পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
মহাপরিচালক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রান্তিক পর্যায়ের পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং পূজারিদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ সুদৃঢ় করতে তিনি মন্দিরটি পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্বশীলতা, সতর্কতা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থাপনার আওতায় তথ্য প্রদানকারী, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপসে’ সমন্বিতভাবে যুক্ত রয়েছেন। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান, পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হচ্ছে। তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে শহরাঞ্চল পর্যন্ত আনসার-ভিডিপির সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো সংকট ও প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ আনসার-ভিডিপিকে পাশে পাবে। শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
গুজব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে মহাপরিচালক বলেন, কোনো গোষ্ঠী যাতে গুজব, উসকানি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ধৈর্য, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। প্রশাসনিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উৎসবের স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
এ সময় কর্মহীন যুবক-যুবতীদের আনসার-ভিডিপির দক্ষতাভিত্তিক ও আয়বর্ধক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মহাপরিচালক বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। ‘সঞ্জীবন প্রকল্পের’ মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ বেকারত্ব হ্রাস, জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আনসার মহাপরিচালক আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে দুর্গাপূজায় বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

