বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দল কেনার আগ্রহ দেখিয়েছেন সামিন রানা। তিনি পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পিএসএলের দল লাহোর কালান্দার্সের মালিক। দর-কষাকষি ও সব প্রক্রিয়া ঠিকঠাক হলে তিনি বিপিএলে দল কিনবেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি।
এখন আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে শান্ত-মুস্তাফিজরা। সেখানেই বাংলাদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সামিন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই বাংলাদেশ আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি। আমি বিপিএল বা বাংলাদেশ ক্রিকেটের কোথাও অংশ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছি। সবকিছু আসলে নির্ভর করে কী ধরনের সুযোগ সামনে আসে তার ওপর। যদি কোনো সুযোগ থাকে, আমি বিপিএলের অংশ হতে পছন্দ করব।’
বিপিএলের প্রশংসাও করেন তিনি। সামিন বলেন, ‘বিপিএল চমৎকার একটি টুর্নামেন্ট। আমি জানি এটি কিছু সময় ধরে কঠিন সময় পার করছে এবং এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। তবে আমার মনে হয় বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে আমাদের যে ধরনের আবেগ রয়েছে, তাতে এই লিগ আয়োজনে সংগ্রাম করা উচিত নয়।’
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে কথা হওয়ার খবরও জানান এই পাকিস্তানি ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘তামিম ভাইয়ের সঙ্গে আমার কিছু আলোচনা হয়েছিল, যেখানে অভিজ্ঞতা শেয়ার হয়েছে। যেমন আমি ১১ বছর ধরে পিএসএলের অংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার জিএল২০ গ্লোবাল লিগেরও অংশ ছিলাম। আমরা সেই গ্রুপের অংশ ছিলাম। আমি একাধিকবার টি-টেন লিগের অংশ ছিলাম, বেশ কিছুদিন ধরে ক্রিকেট কানাডার সঙ্গেও কাজ করছি।’
সামিন আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে আমাদের অনেক জ্ঞান এবং বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। তাই আমরা কিছু চিন্তাভাবনা শেয়ার করছিলাম যে কীভাবে এটিকে উন্নত করতে পারি। যদি এমন কোনো সুযোগ তৈরি হয় যা উভয়পক্ষের জন্যই লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, তবে আমি বিপিএলের অংশ হতে খুবই আনন্দিত হব।’
পিএসএলে লাহোরের জার্সিতে বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটার খেলেছেন। দলটির মালিক বলেন, ‘আমি অবশ্যই যেকোনো সুযোগ কাজে লাগাব। আর বাংলাদেশে যেতে আমি খুব পছন্দ করব। আশা করি বিপিএলে আমরা কোনো সুযোগ পাব। যদি তা না-ও হয়, তবে বিসিবি-র সঙ্গে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম (বিনিময় কর্মসূচি) করতে চাই। কারণ আমরা সম্প্রতি গায়ানার সঙ্গে চুক্তি করেছি, গায়ানা ইয়ুথ অ্যান্ড কালচার মিনিস্ট্রির সঙ্গে চুক্তি করেছি। তারা তাদের প্লেয়ারদের পাঠাবে।’
পাকিস্তানের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনেও আশাবাদী সামিন। তিনি বলেন, ‘জিম্বাবুয়ের ৮ জন প্লেয়ার ৬ সপ্তাহের জন্য ইসলামাবাদ হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে ছিল। তাই বাংলাদেশ থেকেও যদি তারা মনে করে, তবে পাকিস্তানে আসা এবং একে অপরের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করতে আমি ভীষণ আনন্দিত হব। এটাই আমার পরিকল্পনা।’
