রংপুরে গণপিটুনিতে নিহত ২
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->রংপুরের গংগাচড়ায় অটোরিকশা চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে দুজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার বড় বিল ইউনিয়নের বাগপুর বাগেরহাটে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।
নিহত আজারুল মিয়া ও সাদিকুল ইসলাম গংগাচড়া উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর বাগেরহাট গ্রামের আব্দুল মতিন মেম্বারের ছেলে সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে ব্যাটারিচালিত অটো চুরির সময় মালিক বুঝতে পেরে চিৎকার করে। একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী মসজিদের ইমাম বুঝতে পেরে মসজিদের মাইকে চোর বলে চিৎকার করেন। এ সময় ফজরের নামাজ পড়া মুসল্লিও স্থানীয় লোকজন অটোসহ চোরদের ধাওয়া করে গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনির ফলে ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাটি সম্পর্কে সিআইডি এবং পিবিআই, ক্রাইমসিন টিমকে অবগত করার পর তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করেন।
গংগাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, ‘মরদেহ আমরা নিয়ে এসেছি। পরবর্তী অভিযোগ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সেলিম সরকার/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
চাকরির আশায় রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধে, রাজুর মৃত্যুর খবরে দিশেহারা পরিবার
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->রাশিয়ায় মেকানিক্যাল শ্রমিকের চাকরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন ছিল ফরিদপুরের রাজু মাতুব্বরের (২৮)। সেই আশায় গত ৮ মে দেশ ছাড়েন তিনি। কিন্তু চাকরির পরিবর্তে তাকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফেসবুকে রাতুল নামের এক যুবকের প্রকাশ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে রাজু মারা গেছেন বলে দাবি করেন রাতুল। পাশাপাশি ভিডিওটি বেশি বেশি শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি।
রাজু ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার মাঝিকান্দা গ্রামের নান্নু মাতুব্বরের ছেলে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পরিবারে চলছে আহাজারি। আড়াই বছরের ছেলে ও এক বছরের মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী শারমিন আক্তার। ছেলের ছবি হাতে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বাবা নান্নু মাতুব্বর ও মা রাজিয়া বেগম।
রাজুর পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী কফাইবালিয়া গ্রামের প্রিন্স মাতুব্বর ও তার ছোট ভাই রানার মাধ্যমে সাড়ে ১৪ লাখ টাকায় রাজুকে রাশিয়ায় পাঠানোর চুক্তি হয়। এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করা হয়। বাকি ১০ লাখ টাকা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি পাননি রাজু। পরিবারের দাবি, তাকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রিন্স ও রানাকে দায়ী করছেন স্বজনরা। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজুর বাবা নান্নু মাতুব্বর বলেন, ‘ভালো চাকরির আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর খবর পাই।’
এখন ছেলের মৃত্যুর খবর শুনছেন। তিনি ছেলের প্রকৃত অবস্থা জানতে চান। একই সঙ্গে এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
রাজুর ছোট ভাই রাজন মাতুব্বর জানান, ভিডিওটি দেখার পর পরিবারের সদস্যরা রাতুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন রাতুলও রাজুর মৃত্যুর কথা জানান। তবে কীভাবে, কখন বা কোথায় রাজু মারা গেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি তারা।
রাজুর স্ত্রী শারমিন আক্তার দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন। বাবার সঙ্গে কী ঘটেছে, তা বোঝার বয়স হয়নি সন্তানদের।
তবে রাজুর পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রিন্স মাতুব্বরের ছোট ভাই রানা। তার দাবি, রাশিয়ায় যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে রাজুকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।
রাজু নিজেই রাশিয়ায় অবস্থানরত প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে যান। তাকে প্রতারণা করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন রানা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রিন্স মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ জানান, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। রাজুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রাজুর প্রকৃত অবস্থা জানতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। তাদের দাবি, রাজু বেঁচে থাকলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। আর মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফেরানোর পাশাপাশি চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগের তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এনকেবি নয়ন/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
মুক্তিযোদ্ধা বানানোর নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ছয় শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে নিয়ে বিক্রির চেষ্টা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সমবায় সমিতির প্রায় ১০ লাখ টাকা ও সংসদের আসবাবপত্র আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাশেম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত।
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নতুনপাড়া এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবুল কালাম অভিযোগ করেন, মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় গেজেটভুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক বছর আগে তার কাছ থেকে ৪৭ হাজার টাকা নেন আবুল হাশেম। আবুল কালাম বলেন, ‘যুদ্ধের সময় আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় গেজেটভুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক বছর আগে আমার কাছ থেকে ৪৭ হাজার টাকা নিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাশেম। এরপর হবে, হচ্ছে করে করে অনেক ঘুরিয়েছে। এখন আর সে আমার সঙ্গে কথা বলতেও রাজি না।’
একই এলাকার বাসিন্দা মোমিনুল হক অভিযোগ করেন, তার বাবা মরহুম গোলাম হোসেন মুক্তিযোদ্ধা না হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তার বাবাকে গেজেটভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আবুল হাশেম তার প্রবাসী ছোট ভাই ও মায়ের কাছ থেকে কয়েক দফায় আড়াই লাখ টাকা নিয়েছেন। মোমিনুল হকের অভিযোগ, বিভিন্নভাবে তাদের কাছ থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে উপজেলার শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন আবুল হাশেম। তবে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলছেন না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগীরা প্রতিকার দাবি করেছেন।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সম্পত্তি ও সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতারা। তাদের অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ছয় শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে করে নেন আবুল হাশেম। এখন ওই জমি গোপনে বিক্রির চেষ্টা করছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. হাসানুল ইসলাম, পৌর শাখার সভাপতি লিটন বিশ্বাস এবং উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক শশাংকর কিশোর ত্রিপুরা লিটন এ অভিযোগ করেন।
জমির পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের সমবায় সমিতির প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আসবাবপত্র আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. নূর নবী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কয়েকদিন আগে লিখিত অভিযোগও করেছেন।
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূর নবী ও আরেক সাবেক কমান্ডার মনীন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা অভিযোগ করেন, সমিতির অর্থ ও সংসদের সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব সম্পদের বর্তমান অবস্থা, অর্থের ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে সব অভিযোগই প্রত্যাখ্যান করেছেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাশেম। জমি, সমবায় সমিতির অর্থ ও আসবাবপত্র আত্মসাৎ এবং অর্থের বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, এসব অভিযোগের কোনোটিই সত্য নয়।
এদিকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আবুল হাশেমের নাম পাওয়া গেলেও তিনি দাবি করেন, চাপে পড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও কোনো কমিটিতে ছিলেন না।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় অগ্নিকাণ্ডে দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অগ্নিকাণ্ডে ৭টি পাটের গুদাম ও ৩টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে, যাতে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া বাজারের একটি পাটের গুদামে হঠাৎ করেই আগুন দেখতে পায় স্থানীয়রা। দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই বাজারের ৭টি পাটের গুদাম ও একটি চায়ের দোকান এবং দুইটি কাঁচামালের দোকান ভস্মীভূত হয়ে যায়। খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু তার আগেই পাটের গুদাম ও দোকানগুলো ভস্মীভূত হয়ে যায়।
বাজারের ব্যবসায়ী কাসেদ মন্ডল জানান, রাত ৮টার দিকে হঠাৎ করেই পাটের একটি গুদামে আগুন দেখতে পায় স্থানীয়রা। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে ৭টি পাটের গুদাম ও একটি চায়ের দোকান এবং দুইটি কাঁচামালের দোকান মুহূর্তের মধ্যেই ভস্মীভূত হয়ে যায়। প্রায় তিন হাজার মন পাট পুড়ে যায়। যার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক সোহেল রানা জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু তার আগেই পাটের গুদাম ও দোকানগুলো আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। কিছু মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের বিষয়টি এখনো জানা যায়নি, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপনে কাজ চলছে।
এন কে বি নয়ন/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
সাঈদীর মামলার সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং নিজ এলাকায় দাফন করা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
পরে শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে তাকে গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত সাড়ে ৯টা) মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে রাখা ছিল।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। জামায়াত নেতা ও পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে মানিক পশারী পলাতক ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গত দুই মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় তার মৃত্যু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলাকালে জামায়াতের নেতারা বাধা দেন।
মানিক পশারীর জামাতা ফারুক হোসেন বলেন, ‘সকাল ১০টায় তিনি মারা যান। দুপুর ১২টার দিকে আমরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে যাই। বিকেলে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গোপনে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।’
ফারুক হোসেনের অভিযোগ, মরদেহটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে বরফ ছাড়া ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা রাখা হয়েছে। দাফনের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। কোথায় কীভাবে মরদেহ দাফন করবেন, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, তাকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না এবং পিরোজপুরের মাটিতে তার মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বলেও জানান তিনি।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর রয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম জানান, মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তার দাফন নিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিবেশ অনুকূলে আসামাত্রই দাফনের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
