অনলাইন ডেস্ক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল ২০২৪ সালের ২ আগস্ট। ১০ দিনের বিরতির পর সেদিন রাজধানীর উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা গণমিছিলে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে ছাত্র-জনতার ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে প্রথমবারের মতো রাজপথে আওয়ামী লীগ কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
৩১ জুলাইয়ের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে হামলার পর আন্দোলনে নতুন গতি আসে। শিক্ষার্থীরা ১ আগস্টকে ‘৩২ জুলাই’ হিসেবে ঘোষণা করে জানায়, শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত ‘জুলাই’ চলবে। সেই ধারাবাহিকতায় ২ আগস্টকে ‘৩৩ জুলাই’ হিসেবে গণ্য করে দেশব্যাপী গণমিছিলের কর্মসূচি পালন করা হয়।
জুমার নামাজের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে প্রবল বৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। ঢাকার শাহবাগ ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও উত্তরায় সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া খুলনা, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর ও সিলেটেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এর আগের দিন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক—নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও নুসরাত তাবাসসুম—এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, ডিবি হেফাজতে থাকাকালে আন্দোলন প্রত্যাহারের যে ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়েছিল, তা ছিল চাপের মুখে দেওয়া। একই সঙ্গে তারা ৯ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এবং ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের ডাক দেন।
খুলনায় জিরো পয়েন্ট এলাকায় পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সিলেটের আখালিয়া ও মদিনা মার্কেট এলাকায়ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। হবিগঞ্জে গণমিছিলে হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।
এদিন শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজপথে নামেন শিল্পী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে ‘দৃশ্যমাধ্যম শিল্পীসমাজ’-এর ব্যানারে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। পাশাপাশি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের অংশগ্রহণে ‘দ্রোহযাত্রা’ বের হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
