যমুনার বুকে নৌভ্রমণ, চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, গ্রামীণ জীবনযাপন ও লোকজ সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চর উৎসব’। এর মাধ্যমে চরাঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন জনপদের মানুষের সঙ্গে শহরের বাসিন্দাদের সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজন করে সামাজিক সংগঠন সমধারা। এতে ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল স্মার্ট ট্যুরিজম।
উৎসবে ছিল সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী খাবার পিঠুলি, বাউলগান ও ঘুড়ি উৎসবসহ নানা আয়োজন। শিশুদের মধ্যে ঘুড়ি ও খাবার বিতরণ করা হয়। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয় সিরাজগঞ্জের জিআই পণ্য গামছা। এ ছাড়া কলাপাতায় খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়।
আয়োজক সমধারার সভাপতি ও সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল সাফি বলেন, চরাঞ্চলের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সম্ভাবনা তুলে ধরতে এবং চরাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে শহরের মানুষের যোগাযোগ বাড়াতে এ আয়োজন করা হয়েছে।
সমধারার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রতীক মাহমুদ বলেন, স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করবে। পাশাপাশি পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে।
স্মার্ট ট্যুরিজমের প্রতিষ্ঠাতা মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতিকে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উৎসবে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জহুরুল ইসলাম বাবু, লেখক ও সংগঠক শ্যামলী খান, কবি শামীমা আফরোজ হ্যাপি, লেখক সুরাইয়া ইসলাম, উদ্যোক্তা শামীমা সুলতানা সাথী, সমধারার কোষাধ্যক্ষ বাবলা বাসার, ব্যবসায়ী এনামুল প্রবাল, সাংবাদিক নজমুল ইসলামসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে চরাঞ্চলের পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
